
পশ্চিমবঙ্গের বাজারে ইলিশ - ছবি: শঙ্খ দাসশেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেও বাংলাদেশ দুর্গাপুজোর আগে ইলিশ পাঠিয়েছে ভারতে। মহম্মদ ইউনূস যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশ চালাচ্ছিলেন, তখনও পদ্মার ইলিশের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়নি ভারতের বাঙালিরা। বিশেষ করে দুর্গাপুজোয় পাতে পড়েছে অতি সুস্বাদু পদ্মার ইলিশ। কিন্তু এ বার ছন্তপতন! এ বছর সম্ভবত পুজোর আগে পদ্মার ইলিশ আসবে না বাংলাদেশ থেকে। ফলে পুজোতেও ভরসা সেই গুজরাতের ইলিশ।
পদ্মার ইলিশ সম্ভবত পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ
২০২৪ সালের অগাস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পরেও ওই বছরেই সেপ্টেম্বরে ভারতে ৯ হাজার টন ইলিশ রফতানি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এই বছর বাংলাদেশের নিজেদের দেশেই ইলিশের অত্যন্ত কম উত্পাদন। যার নির্যাস, ভারতের গুজরাত থেকেও ইলিশ আমদানি করতে হয়েছে খোদ বাংলাদেশকেই। ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মকসুদের বক্তব্য, তাঁরা ইলিশের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমতি পাওয়া যায়নি। উল্টে ভারত থেকে বাংলাদেশ যে ডিম ভর্তি ইলিশ আমদানি করছিল তাও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

অতীতেও বাংলাদেশের ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা
অতীতেও শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতে ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৩ সালে ভারতে ইলিশ রফতানি ব্যান করেছিলেন বাংলাদেশের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের পর থেকে সেই সব জট কেটে যায়। ইলিশ আমদানির জন্য কলকাতার ফিস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল গত অগাস্টে ঢাকায় গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য দফতরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইলিশ আমদানি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবারেও বাংলাদেশি ইলিশ পাঠানো হবে। কিন্তু অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের মাছ ব্যবসায়ীরা গুজরাত থেকে ৫৫০ মেট্রিক টন ডিম ভর্তি ইলিশ আমদানি করে। তারপরেই পরিস্থিতির বদল শুরু হয়।

পদ্মার ইলিশ বনাম গুজরাতের ইলিশ
একটি বিষয় স্পষ্ট, বাংলাদেশে ইলিশ এই বছর না আসার সম্ভাবনাই প্রবল। সে ক্ষেত্রে গুজরাতের ইলিশের স্বাদ কি পদ্মার ইলিশের মতো? ইতিমধ্যেই গুজরাতের ইলিশ ছেয়ে গিয়েছে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বাজার। গুজরাতের ভারুচে ২০২৪ সাল থেকে নর্মদায় হঠাত্ করেই ইলিশ উত্পাদন বাড়তে শুরু করে। হাওড়ার বাসিন্দা দেবশ্রী মণ্ডলের কথায়, 'পদ্মার ইলিশের স্বাদ বাংলাদেশের মতো একেবারেই নয়।'