এনকাউন্টারে মৃত প্রভাস, তাঁর স্ত্রী চাঁপা বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত এনকাউন্টারে খতম হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে প্রভাস মণ্ডল পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিল বলে দাবি। সে সময়েই পাল্টা পুলিশের গুলিতে প্রাণ যায় তার। স্বামীর মৃত্যুতে বিচলিত হচ্ছেন না স্ত্রী চাঁপা মণ্ডল। স্বামী অত্যাচার এবং নোংরামো তিনি আগেও দেখেছেন বলে জানালেন সংবাদমাধ্যমে।
চাঁপা মণ্ডল বলেন, 'ওই কাজ যে ও করেনি, তা বলতে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি মেনেই নিয়েছি, ও এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। অন্যায় করেছে তাই গুলি খেয়েছে। কারণ ওর নোংরামি তো আমি আগেও দেখেছি। বিয়ের পর থেকে ওর নোংরামি আর অত্যাচার সহ্য করেই আছি।'
নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার রাতে তাকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অপরাধস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই সে পুলিশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। পালানোর সময়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশি এনকাউন্টার উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের অনুকরণ বলেই মনে করছেন অধিকাংশ। এনকাউন্টারে নিহত প্রভাসের মা-ও ছেলের দেহ নিতে রাজি হননি। তিনি বলছেন, 'আমি ওর দেহ দেখতে চাই না। দেখে কী করব! আমার যাওয়ার শক্তি নেই। গলা শুকিয়ে আসছে। পুলিশকে বলেছি, তোমরা যা খুশি করো। ছেলের মৃত্যু হলে মায়ের তো কষ্ট হবেই। কিন্তু ও যা কর্ম করেছে, তাতেই ওর মৃত্যু হয়েছে, আমার শান্তি।' একই সুর স্ত্রীর গলাতেও।
'বাবা-মা যেভাবে চাইবে, সেভাবেই ন্যায়বিচার দেব, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে।' বারুইপুরে খুন-ধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে এভাবেই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে নিজে গিয়ে নাবালিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বেরিয়ে এসে বলেন, 'সকালে ধরব, রাতে খরচ করব।' এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এনকাউন্টারে খতম এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের।
এ প্রসঙ্গে নাবালিকার বাবা বলেন, 'সরকারের উপর সম্পূর্ণ আস্থা ভরসা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কথা দিয়েছেন, যেভাবে কাজ চলছে, আমরা খুব খুশি। ওঁর উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। পুলিশ না থাকলে আমরা এতদূর এগোতে পারতাম না। আরও যারা আছে তারাও গ্রেফতার হবে। তাদেরও শাস্তি হবে।'