রাতভর বিকাশ ভবনের সামনেই অবস্থান করলেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বৃহস্পতিবার দিনভর আন্দোলন চলার পর ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় বিকাশ ভবনের সামনে। আন্দোলনরত চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের এলোপাথাড়ি মারধর করে পুলিশ। নামানো হয় ব়্যাফ। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে। বিধাননগর কমিশনারেটের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানান এক আইনজীবী।
চাকরিহারা শিক্ষকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলে শুক্রবার রাজ্য জুড়ে ধিক্কার দিবস পালনের ডাক দিয়েছেন ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর সদস্যরা। নাগরিক সমাজ থেকে বুদ্ধিজীবী মানুষদের এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। একাধিক আহত হন। রাতে এসে পৌঁছন আরজি কর আন্দোলনের চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো সহ আরও অনেকে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার পর ঘটনাস্থল থেকে চাকরিহারাদের টেনে হিঁচড়ে বের করতে শুরু করে পুলিশ। তখনই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকেই প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল বিকাশ ভবন চত্বরে। সন্ধে গড়াতেই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে।
ফের পরীক্ষায় বসবেন না, তাঁদের চাকরিতে স্থায়িভাবে বহাল করতে হবে এই দাবিতে আজ সকাল থেকে বিকাশ ভবন চত্বরের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তবে একসময় একটি গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তখনই ঘটনাস্থলে চলে আসে পুলিশ। ধস্তাধস্তি হয়েছিল। সেই সময় ঘটনাস্থলে তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত আসেন। তাঁর কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে।
এরপর বিকেলে সেখানে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মহিলা পুলিশও আসে। সাইরেন বাজানো শুরু করে। অভিযোগ এরপরই চাকরিহারাদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু হয়। বিকাশ ভবন চত্বর থেকে তাঁদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা।
এদিকে লাঠিচার্জের জেরে একাধিকজন জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজনের জামা টেনে ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। হাতে ও পায়ে চোট পেয়েছেন। রক্ত ঝরেছে বলেও অভিযোগ।
চাকরিহারাদের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু পুলিশ বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ করে। যদিও পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিক্ষুব্ধদের দাবি, তাঁরা পরীক্ষায় নতুন করে বসবেন না। সেই বার্তা পৌঁছে দিতে চান মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনাও চান। সেই জন্য অবস্থান করছেন। তবে সেই অবস্থানে লাঠিচার্জ করা হয়।