scorecardresearch
 
 

'অশান্ত' বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহল, দিল্লিতে জোর আলোচনা

নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা বেশিরভাগ নেতাই ভোটে পরাজিত হয়েছেন। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক পদ ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে রাজনীতি করা কঠিন বলেই মনে করছেন সেই সমস্ত পরাজিত নেতানেত্রীরা। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের একাংশ রাজ্যে দলের সংগঠন ও কার্যপ্রাণালি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • রাজ্য বিজেপিতে অনেকেই বেসুরো
  • আলোচনায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব
  • নয়া রাজ্য সভাপতি ও পর্যবেক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনা

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে খুব একটা স্বাভাবিক নেই বঙ্গ বিজেপির (BJP) অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। আর সেই খবর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও রয়েছে। সেই কারণেই গত ২ দিন ধরে বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে জোর আলোচনা চলছে বিজেপির অন্দরে। নির্বাচনের ফলাফলের পরেই বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। আর তার প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রীতিমতো তোপ দেগেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা কিছু নেতানেত্রীর 'ঘর ওয়াপসি'র জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় দলের ঐক্য ধরে রাখা এবং কর্মীদের মনোবল বজায় রাখাই বিজেপি নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা বেশিরভাগ নেতাই ভোটে পরাজিত হয়েছেন। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক পদ ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে রাজনীতি করা কঠিন বলেই মনে করছেন সেই সমস্ত পরাজিত নেতানেত্রীরা। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের একাংশ রাজ্যে দলের সংগঠন ও কার্যপ্রাণালি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যেমন মুকুল রায়ের পরিবর্তে শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) বিরোধী দলনেতা করায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। 

শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই বিজেপির বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে দেখা যায়নি মুকুল রায়কে (Mukul Roy)। এদিকে আবার মুকুল রায়ের স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যা ঘিরে রীতিমতো জল্পনা তৈরি হয় রাজ্য রাজনীতিতে। তবে মুকুলেই শেষ নয়, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া আরও বেশ কয়েকজনকে এরই মাঝে বেসুরো হতে দেখা যায়। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী আবার ইতিমধ্যেই দিল্লি গিয়ে বঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডাকে বিস্তারিত রিপোর্ট দেন। 

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে রাজ্য নেতৃত্বে বেশকিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই বিষয়ে আজতককে শুভেন্দু অধিকারী জানান, 'দলের অনুগত সৈনিক, তাই যা বলার দলীয় ফোরামে বলেছি।' মুকুল রায় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'দল যে ২ কোটি ৮০ লক্ষ ভোট পেয়েছে, তা কোনও ব্যক্তির জন্য পায়নি। তা এসেছে দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের কারণে।' কিন্তু মুকুল রায় প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি তিনি।

অন্যদিকে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টের মাধ্যমে বঙ্গ রাজনীতিকে রীতিমতো আন্দোলিত করেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'সমালোচনা তো অনেক হল..... মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি ও ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালভাবে নেবে না।' এদিকে আবার রাজীবের এই ধরনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পালটা তোপ দাগেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এছাড়া শুভেন্দুর পর দিল্লি পৌঁছান সৌমিত্র খাঁ, অর্জুন সিং-এর মতো নেতারা। সূত্রের খবর, তাঁরাও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দলের রাজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরতে চাইছেন। 

এদিকে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে তৃণমূলও (TMC)। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির কমপক্ষে ৩৫ জন বিধায়ক তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন। এখন দেখার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মুকুল রায় ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়। আরও একটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, তা হল গোটা ঘটনার মাঝে দেখা মিলছে না কৈলাস বিজয়বর্গীয়র। সূত্রের খবর বাংলায় দলের নয়া সভাপতি ও পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে পারে বিজেপি। কারণ বাংলায় যদি দলের সংগঠন এখনই ঠিক করা না হয় তাহলে তার প্রভাব অন্য রাজ্যেও পড়তে পারে বলে মনে করছে বিজেপি। এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ সহ বেশকিছু রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। তাই তার আগেই বিজেপি সমস্ত 'ড্যামেজ কন্ট্রোল' করে নিতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।