সিপিএমের দাবি, গত বছরের তুলনায় তাদের বই বিক্রি বেড়েছে ১০৪ শতাংশ। দুর্গাপুজোয় বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে এবার কম হইচই হয়নি। একদিকে বিজেপির দাবি, পুজোয় ২ কোটি টাকারও বেশি বই বিক্রি করেছে তারা। অন্য দিকে, সিপিএমের দাবি, গত বছরের তুলনায় তাদের বই বিক্রি বেড়েছে ১০৪ শতাংশ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দুর্গাপুজোয় বাংলার পাঠকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হলেন নরেন্দ্র মোদী, না কি কার্ল মার্ক্স? তবে দুই দলের দেওয়া হিসাব খতিয়ে দেখলে দেখা যাচ্ছে, বিক্রির পরিমাপের পদ্ধতিই আলাদা। তাই সরাসরি তুলনা করা কঠিন।
বিজেপির রাজ্য সাহিত্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সপ্তর্ষি চৌধুরী জানিয়েছেন, দলের ৪০টি সাংগঠনিক জেলায় আড়াই লক্ষ টাকা করে বই পাঠানো হয়েছিল। অর্থাৎ, জেলা স্তরেই মোট বই সরবরাহের অঙ্ক ১ কোটি টাকা। তবে জেলা দফতরে বই পাঠানো আর সাধারণ পাঠকের কাছে সেই বই বিক্রি হওয়া এক বিষয় নয়। কিছু বই কর্মীদের মধ্যে বিলি হতে পারে। কিছু বই অবিক্রিতও থেকে যেতে পারে।
দলের দাবি, পুজোয় গোটা রাজ্যে প্রায় ২,৫০০টি বইয়ের স্টল বসিয়েছিল বিজেপি। কলকাতা পুরসভা এলাকায় ছিল ২০০টিরও বেশি। ব্যক্তিগত ক্রেতা এবং বিভিন্ন সংগঠনের কেনাকাটা মিলিয়েই ২ কোটি টাকার বেশি বিক্রির হিসাব দিয়েছে তারা। কিন্তু খুচরো বিক্রি, পাইকারি কেনাকাটা এবং অবিক্রিত বইয়ের আলাদা হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, সিপিএম জানিয়েছে, ১২টি জেলায় তাদের বই বিক্রির পরিমাণ ৯৮ লক্ষ টাকা। গত বছর একই এলাকায় বিক্রি হয়েছিল ৪৮ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। অর্থাৎ, বৃদ্ধির হার ১০৪ শতাংশ। পরে গোটা রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকার বই বিক্রির হিসাব দিয়েছে দল।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, পুজোর সময়ে বামেদের ২২৭টি বইয়ের স্টলে হামলা চালানো হয়েছিল। ১৩টি স্টল বন্ধও করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বই বিক্রি বৃদ্ধিই তার প্রমাণ। যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে একটি স্টলে এ বছর প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। গত বছর সেই অঙ্ক ছিল সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা। ১৭ অক্টোবরের সংঘর্ষের পর ওই স্টল ঘিরে চর্চা বেড়েছিল।
তবে বিজেপি ও সিপিএমের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বামেদের দেওয়া অঙ্ক নির্দিষ্ট ১২টি জেলার বিক্রির হিসাব। বিজেপির দাবিতে পাইকারি কেনাকাটা এবং সংগঠনগুলির কেনাও রয়েছে। কোনও দলের হিসাবই স্বাধীন ভাবে নিরীক্ষিত নয়।
বই বিক্রি কি জনপ্রিয়তার মাপকাঠি?
বিজেপির স্টলে নরেন্দ্র মোদী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, আরএসএস এবং হিন্দুত্ব নিয়ে বইয়ের চাহিদা ছিল বলে দাবি। অন্য দিকে, বামেদের স্টলে মার্ক্সবাদী সাহিত্য ও রাজনৈতিক বইয়ের উপস্থিতি ছিল। রাজ্যে বিজেপির প্রায় ২,৫০০টি এবং বামেদের প্রায় ১,২০০টি স্টল ছিল।
তবে বেশি বই বিক্রি মানেই কোনও দলের মতাদর্শের প্রতি মানুষের সমর্থন বেশি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। পাঠকের আগ্রহ, সংগঠনের ক্ষমতা এবং বইয়ের সরবরাহ; সব কিছুরই প্রভাব রয়েছে। আসল প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কত বই সাধারণ পাঠকের হাতে পৌঁছল।