কৃষ্ণগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়, দলবদলে হাতছাড়া হওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত ফিরে পেল BJP

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিল BJP। এক সময় দলত্যাগের জেরে যে পঞ্চায়েত হাতছাড়া হয়েছিল নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে।

Advertisement
কৃষ্ণগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়, দলবদলে হাতছাড়া হওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত ফিরে পেল BJP
হাইলাইটস
  • বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী BJP
  • দলবদলের জেরে হাতছাড়া হয়েছিল
  • গ্রাম পঞ্চায়েত পুনর্দখল BJP-র


রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের অবস্থান বদলের ছবি সামনে আসছে। সেই আবহেই এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিল BJP। এক সময় দলত্যাগের জেরে যে পঞ্চায়েত হাতছাড়া হয়েছিল, প্রধানের পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী পক্ষের অনুপস্থিতিতে ফের সেই পঞ্চায়েতের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিল শাসকদল। এই ঘটনাকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তালদহ মাজদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে শুক্রবার প্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ প্রশাসন, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। 

নির্ধারিত সময়ে প্রধান নির্বাচন শুরু হলে দেখা যায়, BJP-র ১০ জন পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত থাকলেও তৃণমূলের কোনও সদস্য উপস্থিত হননি। ফলে BJP-র প্রার্থী শুক্লা বিশ্বাস সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান নির্বাচিত হন এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তালদহ মাজদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২২টি আসনের মধ্যে ১২টি আসনে জয়লাভ করেছিল BJP এবং ১০টি আসনে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। 

সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে BJP সরকারিভাবে পঞ্চায়েত গঠন করে। প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন বাসন্তী হালদার এবং উপপ্রধান হয়েছিলেন অরুন সিং। পঞ্চায়েত গঠনের প্রায় দু’বছর পর প্রধান বাসন্তী হালদার এক সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। প্রধানের দলবদলের পর তালদহ মাজদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল চলে যায় তৃণমূলের হাতে। এরপর BJP-র কর্মাধ্যক্ষদের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী উপপ্রধান অরুন সিংকে অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে নিজেদের দলে নেওয়ার চেষ্টা হলেও তিনি বিজেপিতেই থেকে যান এবং নিজের দায়িত্ব পালন করে যান। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বাসন্তী হালদার উপলব্ধি করেন যে তিনি BJP ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়ে ভুল করেছিলেন। এরপর তিনি গোপনে কৃষ্ণগঞ্জের বিডিওর কাছে প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিডিও সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং উপপ্রধান অরুন সিংকে পঞ্চায়েত পরিচালনার দায়িত্ব দেন। এরপরই নতুন প্রধান নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়।

Advertisement

প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর তালদহ মাজদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে পৌঁছান কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত বিশ্বাস। তিনি বলেন, 'BJP-তে কোনও গদ্দারের জায়গা নেই। তাঁদের দলের প্রতীকে জিতে প্রধান হওয়ার পর বাসন্তী হালদার দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বলেই পঞ্চায়েত হাতছাড়া হয়েছিল। এখন সেই পঞ্চায়েত আবার BJP-র দখলে ফিরে এসেছে।'

নবনিযুক্ত প্রধান শুক্লা বিশ্বাস সরকার বলেন, 'দলের সমস্ত সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে পঞ্চায়েতের উন্নয়নের কাজ করব। দল যা দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব।'

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে পঞ্চায়েত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় BJP কর্মীদের মনোবল ভেঙে গিয়েছিল। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় পঞ্চায়েতের দখল ফিরে পাওয়ার পর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। 

রিপোর্টার- সুরজিৎ দাস
 

 

TAGS:
POST A COMMENT
Advertisement