মিঠুন চক্রবর্তীMithun Chakraborty at Purulia: আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayat Election)। জোরদার প্রচারে নেমেছে বিজেপি (BJP)। বুধবার পুরুলিয়ায় বিজেপির হয়ে জনসভা করেন মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। রাজ্য সরকারকে নিশানা করে কেন্দ্রের দেওয়া সমস্ত টাকার হিসেব দাবি করেন মিঠুন। সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের একটি সভায় কেন্দ্র একশো দিনের টাকা, আবাস যোজনার টাকা রাজ্যকে দিচ্ছে না বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিন তারই পাল্টা শানালেন মিঠুন।
পুরুলিয়ায় মিঠুন এদিন বলেছেন,"ঘরে ঘরে পোস্টারে বাংলার আবাস যোজনা করে দিয়েছে। যে টাকা পাঠাবে কাকে পাঠাবে? আমি বলছি, সেন্ট্রাল বলছে আগে হিসেব দিন। উঁনি বলছেন আমাদের পয়সা দিচ্ছে না, আমি কীকরে দেব।"
উদাহরণ টেনে মিঠুনের বক্তব্য, আপনি ধরুন রামকে টাকা দিয়ে বাজারে পাঠালেন। রাম ফিরে এলে তার থেকে হিসেব চাইবেন না? যা পয়সা দিলেন তার তো হিসেব থাকে। যদি বলেন ওটা তো শ্যাম দেখে শ্যামকে দিয়ে দিন। আপনি কি শ্যামকে দেবেন? দেবেন না। রামের টাকা রামকেই দেবেন।
এদিন নাম না করে মমতাকে নিশানা করে মিঠুন আরও বলেন,"প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার টাকা সেই আবাস যোজনার ব্যাঙ্কেই আসবে। আপনি পোস্টার মারলে কীকরে হবে? এখন সবাই স্বীকার করছে সড়ক যোজনা, আবাস যোজনা যা কাজ হচ্ছে কেন্দ্র করছে। সব পাবে। ওখানকার লোক এসেছে। সব হিসেব আছে। সব টাকা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার টাকা সবাই পাবেন। কিছু দিনের জন্য টাকা আটকে রাখা এই জন্য কারণ রাজ্য সরকারকে হিসেব দিতে হবে। এটা জনগণের টাকা। সবাইকে হিসেবে দিতে হবে।"
তাঁর আরও দাবি, আমি বলেছিলাম, আসব,,আজ এসেছি। আমি যেখানে বম্বেতে থাকি, সেখানে থেকে এয়ারপোর্ট দেড় ঘণ্টা। সকাল চারটেয় উঠেছি। প্লেন ধরেছি, এসেছি। আমি কোনও ডায়লগ দিতে আসিনি। ভাষণ দিতে আসিনি। আপাদের কথা শুনব, যাকে রিপোর্ট দেওয়ার ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেব।
গত ১৫ নভেম্বর বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে কেন্দ্রকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "কেন্দ্র সরকার মানুষের পকেট কেটে টাকা নিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে বঞ্চনা করছে। আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যকে প্রাপ্য টাকাই দিচ্ছে না। ১০০ দিনের কাজের টাকা বাধ্যতামূলক। আমি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসেছি। এবার কি পায়ে ধরতে হবে? আমাদের টাকা আমাদের দিতে হবে, নইলে গদি ছাড়তে হবে।"
মমতার দাবি, কেন্দ্র একশো দিনের (100 Days Work) টাকা দিচ্ছে না, জিএসটির (GST) টাকা নিয়ে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষকে বঞ্চনা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য থেকে জিএসটির নামে টাকা তুলছে কেন্দ্র, কিন্তু রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। অভিযোগ, কারওর দয়ার টাকা নয়, প্রাপ্য টাকা, বাধ্যতামূলক তাও দেওয়া হচ্ছে না।