ফাইল ছবিবিজেপির শপথগ্রহণের মঞ্চ যেন এক টুকরো বাংলার প্রতিচ্ছবি। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডজুড়ে উঠে এসেছে বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার নানা রূপ। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই মঞ্চ কেবল একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয়, বরং তাদের কল্পিত ‘সোনার বাংলা’র রূপরেখা।
মঞ্চসজ্জা এবং পোস্টারে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বাঙালিয়ানার আবহ। কোথাও দেবী দুর্গার ছবি, কোথাও ধুনুচি হাতে নাচে মেতে ওঠা যুবক-যুবতী, আবার কোথাও ঢাকের তালে উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা মানুষের ছবি। বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সামনে আনতেই এই বিশেষ নকশা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্রিগেড চত্বরে তৈরি হয়েছে এক উৎসবের পরিবেশ। কীর্তন, ছৌ নাচ, বাউল গান এবং ধামসা-মাদলের তালে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মঞ্চে জায়গা পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি। পাশাপাশি দক্ষিণেশ্বর মন্দির, দেবী দুর্গা-সহ বাংলার নানা সাংস্কৃতিক প্রতীকের কোলাজও নজর কেড়েছে উপস্থিত দর্শকদের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু ভিভিআইপি অতিথি। বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শিলিগুড়ির প্রবীণ ব্যক্তি মাখনলাল সরকার, যিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শেষযাত্রার অন্যতম সঙ্গী ছিলেন। দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অপরাধে একসময় তাঁকে দিল্লিতে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার গ্রেফতার করেছিল বলেও জানা যায়।
মঞ্চে মাখনলাল সরকারকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেও দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। সেই মুহূর্ত ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় ব্রিগেডে।