বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যপশ্চিমবঙ্গে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে এসেছে বিজেপি। আর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই পশ্চিমবঙ্গে 'তোলাবাজি আউট' বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে একাধিক জায়গায় বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের কড়া অবস্থান আবার স্পষ্ট করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, দলের নাম করে তোলাবাজি করলে জেলে যেতে হবে।
শমীকের বক্তব্য, 'যদি কেউ বিজেপির পতাকা নিয়ে কারখানা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা চায় বা তোলাবাজি করে, তাহলে তার স্থান জেলে।'
প্রসঙ্গত, কলকাতায় ব্যবসায়ীদের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন বিজেপি সভাপতি। সেখানেই তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়ন বা স্টুডেন্ট ইউনিয়ন নেই। তাই যে বা যারা তোলাবাজি করবে, তাদের জেলে যেতে হবে।
এখন প্রশ্ন হল, কেউ বা কারা যদি টাকা দাবি করে, তাহলে কী করতে হবে? আর সেই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন শমীক। তিনি বলেন, 'কেউ যদি বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে টাকা দাবি করে, তাহলে কাছের পার্টি অফিসে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করতে হবে। তাকে জেলে পাঠানো হবে।'
কেন হঠাৎ এমন কথা শোনা গেল শমীকের মুখে?
এমন কথা প্রথমবার বললেন না শমীক। এর আগেও তিনি বারবার দাবি করেছেন যে বিজেপির কোনও শ্রমিক ইউনিয়ন নেই। এমনকী নেই কোনও ছাত্র সংগঠন। পাশাপাশি তোলাবাজির বিরুদ্ধেও তিনি স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছিলেন।
আসলে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বারবার তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার পাশের ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিল্পপতি, সকলের কাছেই চাঁদা চাওয়া বা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তাই ২০২৬ বিধানসভা ভোটের প্রচারপর্ব থেকেই বিজেপি দাবি করে যে তাদের সরকার এলে তোলাবাজি হবে না। এই ধরনের অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।
আর জনগণ যে সেই বার্তায় ভরসা রেখেছিল, সেটা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার। তাই ২০৮টি আসন জিতে নিয়েছে বিজেপি। ১০০-এর নীচে নেমে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
যদিও এহেন পালাবদলের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে বিজেপির নাম করে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছে। আর সেটা নজরে এসেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টা নিয়ে সরব হলেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে বিজেপির সভাপতি জানিয়ে দিলেন, বিজেপির নাম করে এই ধরনের কাজ করা চলবে না। এই ধরনের কাজ করলে আদতে বিপদ বাড়বে। তাদের জেলে যেতে হবে। এখন দেখার শমীকের এহেন বার্তার কতটা প্রভাব পড়ে একবারে 'গ্রাসরুট লেভেলে'!