শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির অভিযানের মাঝে সটান হাজির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেরোলেন হাতে সবুজ ফাইল, ফোন ও ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক নিয়ে। কয়লা পাচারের তদন্তে ইডির তল্লাশির মাঝে এই ঘটনা। বাংলার রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা। কার্যত নজিরবিহীন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে বেরিয়ে চলে যান আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের অফিসে। সঙ্গে ছিলেন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাও। মুখ্যমন্ত্রীর এহেন পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
শুভেন্দু বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী যা করলেন সাংবিধানিক কাজে হস্তক্ষেপ এবং কাজে বাধা দান। এই কাজকে নিন্দা জানাই। তিনি একজন মুখ্যমন্ত্রী, তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতানেত্রী নন, প্রশাসনিক কর্ত্রীও।ইডির উচিত তার ক্ষমতা বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া। তারা আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন।"
তিনি আরও বলেন, "আইপ্যাকের কাছে ভোটার লিস্ট থাকবে কেন? আমি ইডির তদন্তের ব্যাপারে ঢুকব না। সিপি ও মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়াকে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক বলে মনে করি। রাজীব কুমারের সময়ও একই কাজ করেছিলেন। তৃতীয়বারের মতো তিনি এই কাজ করলেন। যদি ব্যবস্থা না নেন তাহলে পশ্চিমবঙ্গে ভুল বার্তা যাবে। আইপ্যাক কি পার্টি অফিস নাকি? তারা কাগজপত্র দেখে নেবে। আমার প্রবীণ বাবা-মাকে মুখ্যমন্ত্রী হেনস্থা করেছিলেন। আমার মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এসব মানায় না। বিজেপি কেন কোনও নেতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেখুন, ৫১ কোটি টাকা পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ১০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।"
বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরের পাশাপাশি লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, দিল্লিতে নথিভুক্ত একটি পুরনো কয়লাপাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান।