ফল ঘোষণার পরেই নন্দীগ্রাম জুড়ে শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের উন্মাদনা।বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে। তার ঠিক আগেই নন্দীগ্রাম সমবায় নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়। নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকার নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের গাংড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে সব ক’টি আসনেই জয় পেল বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। মোট ৯টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই বিজেপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনও জিততে পারেনি। ফল ঘোষণার পরেই নন্দীগ্রাম জুড়ে শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের উন্মাদনা।
রবিবার নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মীরা জয় উদ্যাপন করেন। দলীয় পতাকা হাতে মিছিল, আবির খেলা এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। স্থানীয় স্তরের এই নির্বাচনে ফলাফলকে রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ, নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এই জয়ের পরেই প্রতিক্রিয়া দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, 'নন্দীগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত নন্দীগ্রাম ১-এর গাংড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির পরিচালন সমিতির নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত রাষ্ট্রবাদী প্রার্থীরা তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে ৯-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।'
ফেসবুকে শুভেন্দু অধিকারী আরও লেখেন, 'রাষ্ট্রবাদী প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য প্রত্যেক সমবায় সদস্যকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।'
নন্দীগ্রাম সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির এই নির্বাচন মূলত স্থানীয় কৃষক ও সমবায় সদস্যদের ভোটে পরিচালিত হয়। তাই এই ফলাফলকে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন বলেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। বিশেষ করে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের শাসক দল, সেখানে একটি সমবায় নির্বাচনে একটি আসনও না পাওয়া তাদের জন্য অস্বস্তির বলেই মত অনেকের।
অন্যদিকে, বিজেপির কর্মী ও সমর্থকদের দাবি, এই ফল প্রমাণ করে যে নন্দীগ্রামে বিজেপির সংগঠন আরও মজবুত হয়েছে। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষ এবং সমবায় সদস্যদের সমর্থন বিজেপির দিকেই রয়েছে। সেই কারণেই ৯টি আসনের সব ক’টিতেই বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।
এই ফলাফলের পর নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় স্তরের একটি সমবায় নির্বাচনের ফল হলেও, তার রাজনৈতিক তাৎপর্য অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মতো এলাকায়, যেখানে রাজ্য রাজনীতির গতিপথ একাধিকবার বদলেছে, সেখানে এই ফলাফল আগামিদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।