BJP Wins Suti Panchayat Samiti: মুর্শিদাবাদের মুসলিম বেল্টে গেরুয়া ঝড়, সুতি-১ পঞ্চায়েত সমিতি দখল BJP-র

মুসলিম বেল্ট মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েত সমিতির দখল BJP-র। গেরুয়া ঝড় সুতি এলাকায়। ২০ অগাস্ট সভাপতি নির্বাচনে BJP-র বুল্টি ঘোষ মোট ১০ জন সদস্যের সমর্থন পেয়ে জয়ী হলেন। রাজনৈতিক অঙ্কটা কী দাঁড়াল?

Advertisement
মুর্শিদাবাদের মুসলিম বেল্টে গেরুয়া ঝড়, সুতি-১ পঞ্চায়েত সমিতি দখল BJP-র
হাইলাইটস
  • মুসলিম বেল্ট মুর্শিদাবাদে গেরুয়া ঝড়
  • সুতি-১ পঞ্চায়েত সমিতির দখল BJP-র
  • সভাপতি নির্বাচনে BJP-র বুল্টি ঘোষ জয়ী

মুসলিম বেল্ট মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েত সমিতির দখল BJP-র। এই প্রথম গেরুয়া ঝড় সুতি এলাকায়। মুর্শিদাবাদ বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বহুদিন ধরেই তৃণমূল ও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়। সেই মুর্শিদাবাদেই এবার এমন ঘটনা। 

এটা কি সত্যিই মুর্শিদাবাদে BJP-র ‘গেরুয়া ঝড়’-এর শুরু? নাকি মূলত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন, দলবদল এবং স্থানীয় সমীকরণের ফল? সুতি-১ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট আসন ১৮টি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর অঙ্কটা ছিল একেবারেই পরিষ্কার, তৃণমূলের হাতে ১২টি আসন, কংগ্রেসের ৩টি এবং বিজেপির ৩টি। অর্থাৎ সংখ্যার বিচারে তৃণমূলেরই ছিল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা। স্বাভাবিকভাবেই সভাপতি পদেও তৃণমূলের হাজরা সুলতানা বসেছিলেন।

কিন্তু রাজনীতিতে শুধু ভোটের পরের অঙ্কই শেষ কথা নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অঙ্ক বদলাতে শুরু করল। তৃণমূলে ৪ জন সদস্য এবং কংগ্রেসের ৩ জন সদস্য নিজেদের দল থেকে পদত্যাগ করে নির্দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এই ৭ জন সদস্য পরবর্তীতে তৃণমূলের সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। গত ৬ অগাস্ট অনাস্থা ভোটে হাজরা সুলতানা অপসারিত হন। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তৃণমূলের হাতেই থাকা সত্ত্বেও তাদের নির্বাচিত সভাপতি আর পদে থাকতে পারলেন না।

বুধবার, ২০ অগাস্ট সভাপতি নির্বাচনে BJP-র বুল্টি ঘোষ মোট ১০ জন সদস্যের সমর্থন পেলেন। এই ১০ জনের মধ্যে ছিলেন ৩ BJP সদস্য এবং সেই ৭ জন নির্দল সদস্য, যাঁরা আগে তৃণমূল ও কংগ্রেস ছেড়েছিলেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বুল্টি ঘোষ সভাপতি নির্বাচিত হলেন। অর্থাৎ কাগজে-কলমে শুরুতে BJP-র ছিল মাত্র ৩টি আসন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সভাপতির চেয়ার দখল করল BJP।

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক চরিত্র বহুদিন ধরেই আলাদা। জেলায় কংগ্রেসের ঐতিহাসিক প্রভাব রয়েছে, আবার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৃণমূলও শক্তিশালী হয়েছে। BJP রাজ্যের অন্য অনেক জায়গায় দ্রুত শক্তি বাড়ালেও মুর্শিদাবাদে সেই ধরনের পঞ্চায়েত স্তরের ক্ষমতা দখলের ছবি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। সুতরাং সুতি-১-এর ঘটনা বিজেপির কাছে নিঃসন্দেহে একটি প্রতীকী সাফল্য।

Advertisement

এদিকে, বুল্টি ঘোষ BJP-র প্রাক্তন জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় ঘোষের স্ত্রী। ফলে তাঁর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক, দুই ধরনের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। একজন রাজনৈতিকভাবে পরিচিত পরিবারের সদস্য স্থানীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এলেন। BJP-র জন্য এটা নিঃসন্দেহে সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, সুতি-১-এর অঙ্কে কংগ্রেসের ৩ সদস্যও দল ছেড়ে নির্দল হয়েছেন। ফলে এই ঘটনা শুধুমাত্র তৃণমূল বনাম BJP-র গল্প নয়। এর মধ্যে কংগ্রেসের সংগঠনগত অবস্থানও উঠে আসছে। মুর্শিদাবাদের মতো ঐতিহাসিকভাবে কংগ্রেস-প্রভাবিত অঞ্চলে যদি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হন, তাহলে সেটাও বড় সাংগঠনিক প্রশ্ন। তাহলে কি মুর্শিদাবাদের রাজনীতি ধীরে ধীরে তৃণমূল বনাম BJP দ্বিমেরুর দিকে যাচ্ছে? মুর্শিদাবাদে কি সত্যিই নতুন করে গেরুয়া শক্তির উত্থান হচ্ছে? নাকি এটা স্থানীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের একটি ব্যতিক্রমী ফল? এই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। 

রিপোর্টার: সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়

 

POST A COMMENT
Advertisement