তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বাংলার জন্য নির্বাচনী বাজেটের প্রত্যাশা ছিল বাংলাবাসীর। একটি শিল্প করিডর, একটি ফ্রেট করিডর এবং একটি হাইস্পিড রেল করিডর ছাড়া বাংলা নিয়ে বড় ঘোষণা করা হয়নি এই বাজেটে। এতেই ক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, ৮৫ মিনিটের বাজেটে বাংলার নাম একবারও নেওয়া হয়নি। বাংলাকে বাংলাদেশের নজরে দেখা হয় বলেও দাবি করেন অভিষেক।
"এই বাজেটটি দিশাহীন, ভিত্তিহীন। সরকার তো খেলছে। বাজেট তৈরি করা কেন্দ্রের কাজ। এটি সরকারের মূল্যনির্ধারণের বাজেট ছিল। ৮৫ মিনিটের এত বড় বাজেটে বাংলার নাম একবারও নিল না। কয়েক সেকেন্ডও করেনি। বাংলাকে বাংলাদেশের নজরে দেখলে কেন্দ্রের সরকার দেখে, এখানকার মন্ত্রীরা দেখেন, যারা বাজেট বানিয়েছেন তারা দেখেন নাহলে ৮৫ মিনিটের বাজেটে বাংলার নাম একবারও থাকবে না? জল জীবন মিশনের টাকাও আটকে রেখেছেন। ২০২১-র পর থেকে যেভাবে বাঙালিদের অত্যাচার করেছে নির্বাচনী বাজেটের কথা এই সরকারের থেকে আশাও করা যায় না। তারা ভাবে খরচ করলেও হারবে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণ বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেবে।"
তাঁর আরও দাবি, "স্পষ্টতই, বিজেপির সৎ মায়ের মতো মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা গত পাঁচ বছর ধরে এটাই বলে আসছি, যদি এই সরকার শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দেখাতে পারে যে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পর MGNREGA-এর অধীনে বাংলার একজন জব-কার্ডহোল্ডারও সরাসরি বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ পেয়েছেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।"
কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, "যদি তারা দেখাতে পারে যে গত চার বছরে আবাস যোজনার অধীনে - যেখানে কেন্দ্র ৬০% ফান্ড দেয়, এমনকি বাংলার একজন ব্যক্তিও টাকা পেয়েছেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। ২০২১ সালের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তারা গ্রামীণ সড়ক যোজনার অধীনে বাংলাকে ১০ পয়সাও দেয়নি।
এদিন বাজেট ২০২৬-এ বাংলা নিয়ে তিন ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ডানকুনি থেকে সুরাতের ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেইসঙ্গে সাতটি হাইস্পিড রেল করিডরও তৈরি করা হবে। এছাড়াও, রেল-রোড থেকে জলপথে বাণিজ্যের উপর জোর দেওয়ার কথা বললেন অর্থমন্ত্রী। বারাণসী-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরি করা হবে।