Bulldozer West Bengal: 'দেশজুড়েই বুলডোজার চলবে', হাওড়া-শিয়ালদায় উচ্ছেদ নিয়ে মন্ত্রী দিলীপ

West Bengal bulldozer action: দেশজুড়েই বুলডোজার চলবে। বেআইনি নির্মাণ বা দখলদারি ধরা পড়লেই ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। রবিবার এমনটাই জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই 'অ্যাকশন' শুরু হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
'দেশজুড়েই বুলডোজার চলবে', হাওড়া-শিয়ালদায় উচ্ছেদ নিয়ে মন্ত্রী দিলীপবিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই 'অ্যাকশন' শুরু হয়ে গিয়েছে।
হাইলাইটস
  • বেআইনি নির্মাণ বা দখলদারি ধরা পড়লেই ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
  • রবিবার এমনটাই জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
  • বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই 'অ্যাকশন' শুরু হয়ে গিয়েছে।

West Bengal bulldozer action: দেশজুড়েই বুলডোজার চলবে। বেআইনি নির্মাণ বা দখলদারি ধরা পড়লেই ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। রবিবার এমনটাই জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই 'অ্যাকশন' শুরু হয়ে গিয়েছে। হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। বেআইনি দখল এবং অবৈধ নির্মাণ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই এর প্রশংসা করলেও, বিরোধিতাও করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিরোধীদের একাংশের দাবি, উত্তরপ্রদেশের 'বুলডোজার মডেলে'র পথেই হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ। অন্য দিকে, রাজ্যের মন্ত্রীদের বক্তব্য, সরকারি জমি দখল বা বেআইনি নির্মাণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

শনিবার সকাল থেকেই হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন একাধিক এলাকায় শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। গঙ্গার ঘাট, বাসস্ট্যান্ড এবং রেল জমির উপর গড়ে ওঠা বেআইনি দোকান ও অস্থায়ী কাঠামো ভাঙা হয় বুলডোজার দিয়ে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযানে অংশ নেয় রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা RPF, IOW বিভাগ এবং হাওড়া সিটি পুলিশ।

এদিন খড়্গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী Dilip Ghosh বলেন, 'দেশজুড়েই বুলডোজার চলবে। যেখানে বেআইনি নির্মাণ বা দখলদারি থাকবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গেও নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিন থেকেই এই কাজ শুরু হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, যাঁরা বেআইনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বৈধ পথে ব্যবসা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি জমি দখল কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকারের আমলে যে ধরনের বুলডোজার অভিযান দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও কি সেই একই কড়া অবস্থান নেওয়া হচ্ছে? 

উল্লেখযোগ্য, কলকাতার তিলজলা এলাকায় সম্প্রতি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই ঘিঞ্জি এলাকায় বেআইনি এবং বিপজ্জনক নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রশাসনের এই অভিযানকে আগামিদিনের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকে। রাজ্যজুড়ে বেআইনি ফ্ল্যাট-আবাসনের বিরুদ্ধেও কি এই জাতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে? জল্পনায় মশগুল অনেকে।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে রাজ্যের আর এক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল (Agnimitra Paul) বলেন, 'কোনও নির্মাণ বেআইনি হলে আগে নোটিস দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হবে। নথি না থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঠিকই, তবে সময়সীমাও দেওয়া হবে। তাড়াহুড়ো করে কিছু করা হবে না।'

তবে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করা বা জিনিসপত্র সরানোর জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়া উচিত ছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, আচমকা অভিযানের ফলে সমস্যায় পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেআইনি দখলদারি রুখতে প্রশাসনের কড়া অবস্থান যেমন একাংশের সমর্থন পাচ্ছে, তেমনই মানবিক দিক এবং পুনর্বাসনের প্রশ্নও সামনে আসছে। ফলে বুলডোজার অভিযান আগামিদিনে বাংলার রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

POST A COMMENT
Advertisement