ইন্দ্রনীল সেন, নিমাইচন্দ্র দাসকিছুদিন পরেই জগদ্ধাত্রী পুজো। সেজে উঠবে চন্দননগর। তবে এর মাঝেই গ্রেফতার হয়েছেন চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলস সেন। অভিযোগ, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোতেও নানাভাবে প্রভাব খাটাতেন ইন্দ্রনীল। কেন্দ্রীয় কমিটির শৃঙ্খলাতেও আঘাত এনেছিলেন তিনি। ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হতেই মুখ খুললেন চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির চেয়ারম্যান নিমাইচন্দ্র দাস।
নিমাইচন্দ্র দাসের অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের আগে পুজোর সময় অনেকরকম ভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির উপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। কোনও বারোয়ারি নিয়ম ভঙ্গ করলে কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের শাস্তি দেয়। তাঁর কথায়, 'গতবছর তেতুলতলা বারোয়ারিকে আমরা শোভাযাত্রায় গাড়ি কমিয়ে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু সেক্ষেত্রেও মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তখন আমরা চুপ ছিলাম। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম উত্তরটা অন্যভাবে দেব। মা জগদ্ধাত্রীর কৃপায় তিনি এবার তা পেয়ে গিয়েছেন। যদি তিনি অন্যায় করে থাকেন, তার শাস্তি তিনি পাবেন।'
নিমাইচন্দ্র দাস আরও বলেন, 'এর আগে গাইড ম্যাপ প্রকাশ করতে গিয়েও বাধা পেয়েছিলাম। তিনি (ইন্দ্রনীল সেন) আমাদের হেনস্তা করতে চেয়েছিলেন। মা জগদ্ধাত্রী তার জবাব দিয়ে দিয়েছেন।' তাঁর অভিযোগ, শোভাযাত্রাকে কার্নিভাল করার চেষ্টাও হয়েছিল। এই বছর জগদ্ধাত্রী পুজো তাই ভাল ভাবে করার আশা তাঁদের।
জানা গিয়েছে, এ বছরের শোভাযাত্রায় অংশ নেবে ৭৮টি বারোয়ারি পুজোর প্রতিমা। থাকবে ২৪৫টি লড়ি। লাইভ স্ক্রিনিং থাকবে। সমস্ত পুজো কমিটিকে অনুরোধ করা হয়েছে, প্রবেশ পথ ছোট করতে এবং বাহির পথ বড় করার জন্য। চুঁচুড়া, চন্দননগর ও মানকুণ্ডুতে যে স্টেশন রোডগুলি রয়েছে, সেখানে বহু মানুষের ভিড় হয়। তার জন্য প্রশাসন এবং পুজো কমিটিগুলির তরফেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় গার্ড রেলের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বর্তমান বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ প্রসঙ্গে নিমাইচন্দ্র দাস বলেন, 'উনি আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ৫ বছর কোনও রং দেখবেন না। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে একটা অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি চেষ্টা করছেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সহমত রয়েছি। তিনি আমাদের সঙ্গে খুবই সহযোগিতা করছেন।'
রিপোর্টার: পার্থ রাহা