নতুন আয়ুষ বিভাগরাজ্যে আলাদা আয়ুষ দফতর তৈরির দাবি অনেক দিনের। তবে নতুন বিজেপি সরকার আসার পর অবশেষে সেই দাবি মান্যতা পেল। মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা নতুন আয়ুষ দফতর গঠনের ঘোষণা করলেন।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সারাদেশে আয়ুষ চিকিৎসার যে বিপুল সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরি হয়েছে, রাজ্যকে আমরা তার সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। এই দফতরটি পরিচালনার জন্য একজন অত্যন্ত দক্ষ অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।' আর তারপরই খুশির হাওয়া আয়ুর্বেদ, যোগ, হোমিওপ্যাথি সহ আয়ুষের বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিয়ে অখিল ভারতীয় আয়ুর্বেদ মহাসম্মেলনের রাজ্য সভাপতি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা: সুমিত সুর বলেন, 'মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যে ঘোষণা করেছেন, তাতে আয়ুর্বেদ সমাজ উল্লসিত।' সুমিতের মতে, এই ঘোষণার ফলে আগামিদিনে প্রান্তিক স্তরে, একদম প্রাইমারি হেলথ সেন্টার স্তরে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পৌঁছবে। মানুষ এর সুফল লাভ করবে। স্বাস্থ্য খাতে খরচ কমবে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, 'কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৪ থেকে যে জাতীয় আয়ুষ মিশন চালু করেছে, তার অধীনস্ত বিভিন্ন স্কিমে ৩৩ কোটি টাকা ফেরত চলে গিয়েছে। সেটার লাভ বাঙালি পায়নি।'
এই বিষয়ে একই মত প্রকাশ করলেন ইন্ডিয়ান যোগা অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সম্পাদক অভিজিৎ ঘোষ। তাঁর কথায়, 'এটা তো খুব আনন্দের খবর আমাদের পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য। আমরা দেখেছি যে কেন্দ্রের সরকার গঠন হওয়ার সময় প্রথম আয়ুষ মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে গঠিত হয়েছিল। এটা তারই একটা রেপ্লিকা। সমস্ত রাজ্যেই এই ট্রেন্ডকে ফলো করা হচ্ছে। নতুন কিছু নয়। এখন পুরো মন্ত্রক হবে কি জানি না।'
তাঁর আরও বক্তব্য, 'আশা করি আমরা নতুন দফতর পেয়ে ঢেলে সাজাতে পারব এবং জেলাগুলোতেও জেলার আয়ুষ দফতর এবং আয়ুষ হসপিটালগুলোকে শক্তিশালী করতে পারব। তার সঙ্গে আয়ুষ মেডিক্যাল কলেজের যে প্ল্যানিংগুলো রয়েছে, যেখানে প্রচুর ছেলেমেয়ে আয়ুষ সিস্টেম নিয়ে পড়াশোনা করবে, তারা শুধু বাংলাতেই চাকরি বা কাজ পাবে না, সারা ভারতবর্ষে তথা সারা পৃথিবীতে তাদের চাহিদা বাড়বে।'
আয়ুষকে সর্বত্র পৌঁছে দিতে হবে
সুমিতের দাবি, 'আমরা চাইছি প্রতিটি হাসপাতাল যেখানে অ্যালোপ্যাথির আউটডোর হয়, এরকম কমবেশি ১৬০০ হাসপাতালে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা যাতে চালু হয়—এটা আমাদের সরকারের কাছে একটা দাবি। দ্বিতীয় হচ্ছে, দীর্ঘদিন কলেজ না তৈরি করার ফলে রাজ্যে আয়ুর্বেদ ডাক্তারের একটা চরম ক্রাইসিস আছে। সেখানে ন্যূনতম অন্তত পাঁচটি আয়ুর্বেদ কলেজ যদি তৈরি করা যায় এবং একটি আয়ুর্বেদের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান যদি পশ্চিমবঙ্গে প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে অন্তত চিকিৎসার ঘাটতি মিটবে।'
যোগা ডে পালন করতে দিত না
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ করলেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, 'আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের জন্য পুলিশ প্রশাসন আমাদের পারমিশন দিত না। একদম যোগ দিবসের আগের দিন রাতে ছাড়পত্র হাতে আসত। আমরা বাঁশ নিয়ে প্যান্ডেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম যে পারমিশন হাতে আসবে কাজ শুরু করব রাসমণি রোডে। এইভাবে আমরা কার্যক্রম করেছি অনেক বিরোধিতা এবং অসহযোগিতার মধ্য দিয়ে। আজকে আমরা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছি মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এগুলো শুনে।'