মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়Mamata Banerjee at Jhargram: ঝাড়গ্রাম (Jhargram) সফরে গিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee)। বেলপাহাড়িতে (Belpahari) বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রকে জোরালো আক্রমণ করেন। কেন্দ্র একশো দিনের (100 Days Work) টাকা দিচ্ছে না, জিএসটির (GST) টাকা নিয়ে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষকে বঞ্চনা করা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য থেকে জিএসটির নামে টাকা তুলছে কেন্দ্র, কিন্তু রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। অভিযোগ, কারওর দয়ার টাকা নয়, প্রাপ্য টাকা, বাধ্যতামূলক তাও দেওয়া হচ্ছে না।
কেন্দ্রকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, "কেন্দ্র সরকার মানুষের পকেট কেটে টাকা নিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে বঞ্চনা করছে। আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যকে প্রাপ্য টাকাই দিচ্ছে না। ১০০ দিনের কাজের টাকা বাধ্যতামূলক। আমি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসেছি। এবার কি পায়ে ধরতে হবে? আমাদের টাকা আমাদের দিতে হবে, নইলে গদি ছাড়তে হবে।"
তাঁর এ-ও দাবি, গ্রামীণ রাস্তাগুলি তৈরির টাকা দিচ্ছে না। অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরাও তো বন্ধ করে দিতে পারি। কেন তোমায় জিএসটি ট্যাক্স দেব? সব টাকা তোমরা নিয়ে যাচ্ছ। ১০০ দিনের টাকা ফিরিয়ে দাও, নইলে মোদী ছেড়ে দাও। আমার টাকা তুলে যাবে আর আমাকে টাকা দেবে না, এটা তো হয় না। এটা মানুষকে প্রতারিত করা। তাও আমার মনের জোর আছে। এটা কি জমিদারির টাকা? এটা মানুষের টাকা। ১০০ দিনের টাকা দিতে হবে। নুন কিনতে যাচ্ছে জিএসটি ট্যাক্স, শাড়ি কিনতে যাচ্ছে জিএসটি।
রাজ্য় বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর আরও বলেন, কিছু বিরোধী দল বাংলার উন্নয়ন চায় না, বিসর্জন চায়। তারা দিল্লিকে লিখে পাঠায় বাংলাকে টাকা দেবে না। এরকম চলতে থাকলে একদিন আমি তীর-ধনুক নিয়ে, ধামসা-মাদল নিয়ে রাস্তায় নামতে বলব, আমি আপনাদের সঙ্গে থাকব।
আদিবাসীদের জমি কাউকে কেড়ে নিতে দেবেন না। তাদের জমি তাদের কাছেই থাকবে। আদিবাসী ছেলেমেয়েরা পড়াশুনার জন্য বঞ্চিত হবে না, বলে জানিয়েছেন।
আগামী দিনে ঝাড়গ্রাম থেকে বাঁকুড়া পর্যন্ত সার্কিট ট্যুরিজম করার প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী, এতে কর্মসংস্থান হবে।জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি কম হওয়ায় চাষের সমস্যার প্রসঙ্গে মুখ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান। জলের অভাব থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য আরও বেশি পুকুর কাটার নির্দেশ দেন। আরও বলেন, ২০২৪-এর শেষে সকলের বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে যাবে।