মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী।-ফাইল ছবিপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে সিঙ্গুর। চলতি মাসেই হুগলির এই ঐতিহাসিক মাটিতে সরকারি কর্মসূচি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গত রবিবার সিঙ্গুরে মোদীর সভার আগে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব শিল্প সংক্রান্ত বড় ঘোষণার ইঙ্গিত দিলেও, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে শিল্প নিয়ে কোনও উল্লেখ না থাকায় দলীয় অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। এবার সিঙ্গুরে শিল্প, বিশেষ করে টাটা গোষ্ঠীকে ফেরানো নিয়ে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেই স্ট্র্যাটেজির পাল্টা কী কৌশল নিচ্ছেন মমতা, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।
আজ, মঙ্গলবার, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর অতীতের সিঙ্গুর সফর ও সেই সর্ষের বীজ ছড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করলেন, এর আগেও সর্ষে ছড়িয়েছিলেন। আরও অনেক কিছু ছড়িয়েছিলেন, কিন্তু কিছুই হয়নি। একবার জেসিবি দিয়ে গর্ত খুঁড়িয়েছিলেন, মাছ চাষ করবে বলে।' তাঁর দাবি, ক্ষমতায় এলে বিজেপিই টাটাকে সিঙ্গুরে ফেরানোর দায়িত্ব নেবে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভা সিঙ্গুরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে সিলমোহর দিয়েছে। ১১.৩৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে একটি শিল্প প্রকল্পের জন্য, এবং প্রাথমিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর সেদিনের কর্মসূচি থেকে বাংলার আবাস যোজনার কিস্তির টাকাও উপভোক্তাদের হাতে তুলে দিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত খবর, আগামী ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুর সফর মমতার।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গুরে গিয়ে সেখানকার জমিতে সর্ষের বীজ ছড়িয়েছিলেন মমতা। ওইবছর বিধানসভা ভোটে মমতার ওই পদক্ষেপ সিঙ্গুরকে রাজ্য রাজনীতিতে ফের ইস্যু করে তুলেছিল। সিঙ্গুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এক বিশেষ অধ্যায়। শিল্পের নামে কৃষকদের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর উত্থান। বিরোধী নেত্রী থেকে রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে সিঙ্গুর ছিল তাঁর আন্দোলনের প্রতীক। ক্ষমতায় আসার পর সেই জমি চাষিদের ফিরিয়ে দিয়ে তিনি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। ক্ষমতায় ১৫ বছর কাটিয়ে ফের সেই সিঙ্গুরেই তাঁর সভা, স্বাভাবিকভাবেই তা নানা রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে।