ডানকুনিতে লাক্স কোজির ৬০০ কোটির লগ্নির আবহে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর।'আমরা আর একটা নন্দীগ্রাম বা সিঙ্গুর চাই না।' শনিবার রাজ্যের জমি নীতি নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় শিল্পায়নের পথ সুগম করতে জমি অধিগ্রহণ ও লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আমূল বদল আনছে রাজ্য সরকার। সরাসরি জমি কিনে তা শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরের সমস্ত 'দাদাগিরি' ও ছাড়পত্রের ঝঞ্ঝাট এক ধাক্কায় মুছে ফেলার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার হুগলির ডানকুনিতে হোসিয়ারী জায়ান্ট 'লাক্স কোজি' (Lux Cozi) গ্রুপের কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু। সেখানেই নয়া 'ল্যান্ড পার্চেস পলিসি' গ্রহণের বিষয়ে জানান।
ডানকুনিতে লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজের এই নতুন মেগা প্রকল্পে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা লগ্নি হতে চলেছে। ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠবে এই নতুন কারখানা। শনিবার গো-সেবা করে এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে এই নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর উপস্থিতিতেই শিলান্যাস অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা অশোক টোডি।
'আর নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর নয়'
এ দিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাজ্যের নয়া জমি নীতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা ২০১৩ সালের ল্যান্ড পার্চেস পলিসি অ্যাকসেপ্ট করেছি। কোনও শিল্প জমি সরাসরি কিনে, তারপর আমরা চাই না আরেকটা নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর হোক। আমরা ডাইরেক্ট ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু করেছি। এর মাধ্যমে আমরা বিএসএফ-কে বর্ডারের জন্য জমি দিয়েছি। রেলকে জমি দিয়েছি, জাতীয় সড়কের জন্য জমি কিনে দিয়েছি, নতুন বিমানবন্দরের জমি কিনে দিয়েছি। একইভাবে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, যাঁরা এই রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চান, ল্যান্ড কোনও সমস্যা হবে না। আমরা ডাইরেক্ট ল্যান্ড পার্চেস স্কিমে, আমরা জমি কিনে আপনাদের সরাসরি হ্যান্ডওভার করব। ল্যান্ড সেলিং পলিসি একদম বদলে দেব।'
রাজনৈতিক মহলের মতে, এক সময় সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতির মোড় ঘুরে গিয়েছিল। সেই আবহে নতুন করে কোনও জমি জট যাতে শিল্পের পথে অন্তরায় না হয়, তার জন্যই রাজ্য সরকারের এই 'সরাসরি জমি ক্রয়' নীতি।
লাইসেন্সে ‘দাদাগিরি’ বন্ধ: ১০০ কোটির লগ্নিতে সিঙ্গল উইন্ডো
শিল্পের প্রসারে স্থানীয় স্তরের দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে এ দিন কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, 'একশো কোটি টাকার বেশি যাঁরা বিনিয়োগ করবেন, কোনও পঞ্চায়েত, পুরসভা, কর্পোরেশন, জেলা পরিষদের থেকে অনুমতি নিতে হবে না। যত গণ্ডগোল ওখানে। যত দাদাগিরি ওখানে। যাঁরা ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের সেন্ট্রালি সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমে লাইসেন্স দেওয়া হবে। আপনারা এখানে বিনিয়োগ করুন।' অর্থাৎ, বড় লগ্নিকারীদের জন্য কলকাতা বা নবান্ন স্তরের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা থেকেই সমস্ত ছাড়পত্র মিলবে।ফলে স্থানীয় স্তরে ফাইল আটকে থাকার দিন শেষ হতে চলেছে।
ডানকুনিতে ৬০০ কোটির মেগা প্রকল্প
এদিন ভূমি-পুজোর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও ছিলেন। এ ছাড়াও ছিলেন তাপস রায়, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং অর্জুন সিং।