‘ট্রেন-বাস জ্বালানো এখন অতীত, থানায় গিয়ে ভাষণবাজি চলবে না!’ মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে সমাজবিরোধীদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীরসোমবার থেকেই রাজ্যে গুণ্ডা দমন আইন লাগু হচ্ছে। পাশাপাশি UCC কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শেষ। শুক্রবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুু অধিকারী। এদিন মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) চালুর লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিশেষ কমিটি গঠন করে ফেলেছে রাজ্য ক্যাবিনেট। পাশাপাশি, সমাজবিরোধীদের দমনে 'গুণ্ডা দমন বিল' বা অ্যান্টি-হুলিগানিজম অ্যাক্টেও (Anti-Hooliganism Act) রাজভবনের সিলমোহর মিলেছে বলে জানান। আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে গুণ্ডা দমন আইন পুরোদমে কার্যকর হতে চলেছে।
মুর্শিদাবাদ সহ সমগ্র সীমান্ত অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে এদিন আলোচনা করেন শুভেন্দু। নারী পাচার রুখতে পুলিশকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে ইউসিসি কমিটি
বহরমপুরের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'ইউসিসি কমিটি তৈরি হয়ে গিয়েছে, ক্যাবিনেট তা ফর্ম করেছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে এই কমিটি তৈরি হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে খুব দ্রুত এই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ইউসিসি বিল বিধানসভায় আনতে পারব।' প্রশাসন সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এই বিল বিধানসভায় পেশের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। তবে এই আইনের আওতা থেকে আদিবাসী এবং কুর্মিদের মতো জনজাতিদের ছাড় দেওয়া হবে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছে নবান্ন।
‘রেললাইন ভাঙা, ট্রেন জ্বালানো এখন অতীত!’
তোলাবাজি, বোমাবাজি, ভাঙচুরের মতো কার্যকলাপ রুখতে নতুন গুণ্ডা দমন আইন এনেছে রাজ্য। শুক্রবার এই নিয়ে বড় আপডেট দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিধানসভায় বিল পাশ হয়েছে। এরপর বিলে রাজ্যপালের সম্মতিও মিলেছে। আগামী সোমবার থেকেই এই কড়া আইন কার্যকর হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি, 'মুর্শিদাবাদের আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। রেললাইন ভাঙা, ট্রেন জ্বালানো, বাস পোড়ানো, থানা জ্বালানো, বিডিও অফিস ভাঙচুর বা পুলিশকে মারা; এসব এখন অতীত। এসব জিনিস এ রাজ্যে আর বরদাস্ত করা হবে না।'
নারী সুরক্ষা এবং সীমান্ত এলাকায় নারী পাচারের (Human Trafficking) ঘটনা রুখতে রাজ্য পুলিশকে কড়া ও কঠিন পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘ভাষণবাজি বন্ধ, কেউ উস্কানি দিলে সরাসরি আমাকে জানান’
শুভেন্দু বলেন, 'আমরা চাই সবাই দেশের আইন মেনে চলুক। গত ২ মাসে এখানে বড় কিছু হয়নি, শুধু কিছু মানুষের বড় বড় ভাষণবাজি হয়েছিল। পুলিশ নিজের কাজ করছে। কেউ যদি কোথাও উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সরাসরি আমাকে জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানার বাইরে গিয়ে ‘এই করব, ওই করব’; এসব সস্তা ভাষণবাজির দিন শেষ।'