জালি এসটি সার্টিফিকেটতৃণমূল সরকারের আমলে প্রচুর ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট তৈরি হয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে যিনি সার্টিফিকেট দিয়েছেন, আর যিনি নিয়েছেন, দুইজনকেই জেলে পাঠানো হবে বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তাতেই খুশির হাওয়া দেশের আদিবাসী সমাজ বলে দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আজ হুল দিবসে মুকুটমণিপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এই সরকার আদিবাসীদের কর্মসংস্থানও দিতে চায়। এই সরকার আদিবাসীদের যে সংরক্ষণ রয়েছে, সেটা দিতে চায়। বিগত সরকার আপনাদের সংরক্ষণ দেয়নি। কেড়ে নিয়েছিল অধিকার। কারণ তাঁরা পারমানেন্ট চাকরি দিত না। কন্ট্র্যাকচুয়াল চাকরি দিত। আপনারা দেখবেন যত কন্ট্র্যাকচুয়াল চাকরি দিয়েছে, সেখানে শিডিউল কাস্ট এবং শিডিউল ট্রাইব সংরক্ষণ নীতি মানা হয়নি।'
এরপর তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'এই রাজ্যে হাজার হাজার ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রী এবং দফতর প্রত্যেকটা ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। আর দোষী সাব্যস্ত হলে যিনি সার্টিফিকেট দিয়েছেন আর যিনি নিয়েছেন, দুইজনকে জেলে পাঠানো হবে।'
আগের সরকার কথা রাখেন
এদিন শুরু থেকেই তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করেছে। আদিবাসী উন্নয়নে টাকা দেয়নি। পূর্বতন সরকার আদিবাসীদের সংরক্ষণ দেয়নি। বঞ্চিত করেছে। আমাদের সরকার আদিবাসী উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। হাতে কাজ, পেটে ভাত এবং মাথায় ছাদের প্রতিশ্রুতি।’
আদিবাসীদের উন্নতির পক্ষে সওয়াল
হুল দিবসে আদিবাসীদের উন্নয়ন নিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, 'আদিবাসীদের জল, জমি, জঙ্গলের অধিকারের লড়াই প্রতিষ্ঠিত হোক।'
পাশাপাশি তাঁর দাবি, বিজেপি সরকারের সময়ই আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়। অটল বিহারী বাজপেয়ী সাঁওতালি ভাষা ও অলচিকি লিপিকে অষ্টম তপশিলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ আসন রাষ্ট্রপতি পদে আদিবাসী দ্রৌপদী মুর্মুকে নির্বাচিত করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সময়। পাশাপাশি একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে আদিবাসীদের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মন্ত্রিসভাতেও যে একাধিক আদিবাসী রয়েছেন, সেটাও জানালেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ১ জুলাই থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা। এই যোজনায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ মহিলা আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্কুটিনি করে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি মহিলার নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। এঁরা মাসে ৩০০০ টাকা পাবেন।