মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীবর্ষা এলেই বন্যার জলে ডোবে পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার বন্যার কারণ হিসেবে প্রতিবেশী রাজ্য (যেমন ঝাড়খণ্ড) থেকে ছাড়া জলকেই দায়ী করত। DVC-র ছাড়া জলে বাংলায় বন্যা হয় বলে দাবি করতেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করলেন, এবার আর তা হবে না। DVC-র সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে রাজ্য সরকার।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আগের সরকার DVC-কে মিথ্যে দোষারোপ করছে, আমরা সমন্বয়ে কাজ করব।"
আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করে আসতেন, ইচ্ছাকৃতভবে জল ছাড়ে DVC। প্রাকৃতিক নয়, 'ম্যান মেড বন্যা'। ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। ডিভিসির বিরুদ্ধে রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ার অভিযোগ এনেছে। 'না জানিয়ে জল ছেড়ে বাংলাকে ডোবানোর চেষ্টা', বলেও DVC-কে আক্রমণ করেন মমতা। DVC বছরের পর বছর ড্রেজিং করে না বলেও অভিযোগ করেন।
গতবছর মমতা কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “এনাফ ইজ এনাফ! এবার এক বছরের সময়সীমা দেওয়া হচ্ছে, কথা না শুনলে আমরা ডিভিসির বাঁধের সামনেই আরেকটা বাঁধ করে দেব।” যদিও তা আর কর্যকর হয়নি।
বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দামোদর, রূপনারায়ণ ও কংসাবতী নদীর প্লাবনের কারণে এই জেলাগুলি বন্যাপ্রবণ। এছাড়াও, উত্তরবঙ্গের তিস্তা, তোর্ষা ও মহানন্দা নদীর কারণে, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদা জেলাগুলিতে বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। অতিবৃষ্টিতে এই অঞ্চলগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাত এবং প্রতিবেশী রাজ্য (যেমন ঝাড়খণ্ড) থেকে ছাড়া জলই প্রধানত বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এবারের বর্ষায় বর্তমান বিজেপি সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বন্যা মোকাবিলা করা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু DVC-র সঙ্গে সমন্বয় করে কতটা সফলভাবে বন্যা মোকাবিলা করতে পারেন এখন তাই দেখার।