অধীররঞ্জন চৌধুরীপশ্চিমবঙ্গে এসআইআর বা ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনে বাদ যাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবার জনস্বার্থ মামলা করলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। ওই প্রক্রিয়ায় বাদ যাওয়া ২৭ লক্ষ মানুষের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা করেছেন তিনি।
কী অভিযোগ তাঁর?
এসআইআর-এ নাম বাদ নিয়ে বারবার ভুলভ্রান্তির অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। এবার সেই একই দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন অধীর। তাঁর অভিযোগ, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরই বিচার চান তিনি।
এই কংগ্রেস নেতা নিজের আবেদনে দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ ২০২৬ এসআইআর প্রক্রিয়ার বহু মানুষের নাম ইচ্ছামতো কেটে দেওয়া হয়েছে। এর ব্যাপক প্রভাব দেখা গিয়েছে মুর্শিদাবাদে। রাজ্যের এই জেলাতেই প্রায় ৫ লক্ষ ভোটারের নাম সামান্য বানান ভুল বা ঠিকানার ছোটখাটো অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর আবেদনে আরও দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের কাজের ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় বহু দরিদ্র মানুষ রেশন পাচ্ছেন না। এমনকী মিলছে না বার্ধক্য ভাতার মতো বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা।
এমতাবস্থায় স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছে এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে এই সংক্রান্ত মামলাগুলির বর্তমান অবস্থা, শুনানির তারিখ এবং রায়ের কপি দেখার জন্য একটি স্বচ্ছ ডিজিটাল পোর্টাল তৈরি করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়, অধীর আরও দাবি করেছেন যে রাজ্যের ট্রাইব্যুনালে প্রচুর সংখ্যক আপিল ও আপত্তির নিষ্পত্তির মামলা এখনও পেন্ডিং। এই সব মামলার নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করতে হবে। বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এসআইআর ট্রাইব্যুনাল থেকে অবসর নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই বিষয়েই সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
আধীর আরও দাবি করেন, এখন পরিস্থিতি এমন যে, মুর্শিদাবাদে মাত্র দু'টি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে। সেখানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি মামলার নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এই গতিতে কাজ হলে বিপুল সংখ্যক মামলার নিষ্পত্তি করতে ৪ থেকে ৫ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই আবেদনে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলাতেই প্রায় ৫ লক্ষ ভোটারের নাম সামান্য ভুলের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ন্যায্য শুনানির সুযোগও দেওয়া হয়নি। এমতাবস্থায় জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে।