কোচবিহারে ড্রোনঅবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে প্রথম থেকেই কড়া শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সেই মতো সীমান্ত এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করছে কোচবিহার পুলিশ। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে ঢুকছে কি না, সেই দিকে নজর রাখা।
পুলিশ সূত্রে খবর, কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থানার অধীন ছোট গরলঝোড়া এলাকার পুলিশ এই কাজটা শুরু করেছে। ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ড্রোনে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলেই সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় পৌঁছে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এভাবেই অনুপ্রবেশকারীদের আটকে দেওয়ার প্ল্যান করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
মাথায় রাখতে হবে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়টা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের প্রত্যক্ষ মদতেই বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছেন। রাজ্য সরকারের কাছে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি চাওয়া হয়ছিল। কিন্তু তারা দেয়নি। এর ফলেই পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে অনুপ্রবেশকারীরা। তারপর গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এখানেই থেমে না থেকে তাঁদের আরও দাবি ছিল, এই অনুপ্রবেশের জন্যই বাংলার ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে। দেশের সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে।
এখন অবশ্য বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। বাংলায় পালা বদল হয়েছে। এখন এসেছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর ক্ষমতায় এসেই সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই সেই মতো কাজও শুরু হয়েছে বলে খবর মিলছে।
যদিও সেই প্রক্রিয়া শুরুর পরই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কোচবিহারের তিন বিধা করিডরের কাছে এই কাজে বাধা দিতে শুরু করেছে। আর সেখানে গিয়ে বিজিবি-কে সতর্ক করে দিলেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, 'তারা (বিজেবি) বাধা দিতে চাইছে। এবার এই কাজটা তারা করলে কী হয় দেখুন।'
যতদূর জানা যাচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের পর যখন বিএসএফ কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের তিন বিঘা করিডরের কলসিগ্রামে সমীক্ষার কাজ শুরু করে, তখনই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাধা দিতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে বিএসএফ এবং বিজিবি-এর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়।
এবার সেই কোচবিহারেই আবার নজরদারির নতুন পদ্ধতি খুঁজে নিল পুলিশ। এখন থেকে বাংলাদেশিদের আটকাতে সেখানে ড্রোন দিয়ে নজরদারি শুরু হয়ে গিয়েছে।