নতুন BJP-দের 'দাদাগিরি' শুরু? ধমকাচ্ছে, চমকাচ্ছে, নানা এলাকা থেকে আসছে অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর পূর্ব বর্ধমানের একাধিক এলাকায় নব্য বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘সিপিএম আমলের কায়দায়’ দাদাগিরি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, পারিবারিক বিবাদ থেকে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, বিভিন্ন বিষয়ে নিজেরাই ‘বিচারক’ সেজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন একাংশ বিজেপি নেতা-কর্মী। কোথাও জরিমানা করা হচ্ছে, কোথাও চাষ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

Advertisement
নতুন BJP-দের 'দাদাগিরি' শুরু? ধমকাচ্ছে, চমকাচ্ছে, নানা এলাকা থেকে আসছে অভিযোগনব্য় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • তৃণমূলের অভিযোগ, রায়না-২ ব্লকের এক নেতার পুকুর থেকে কয়েক দিন আগে জোর করে মাছ তুলে নিয়ে গিয়েছে নব্য বিজেপি কর্মীরা।
  • শুধু তাই নয়, তাঁর কৃষিকাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর পূর্ব বর্ধমানের একাধিক এলাকায় নব্য বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘সিপিএম আমলের কায়দায়’ দাদাগিরি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, পারিবারিক বিবাদ থেকে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, বিভিন্ন বিষয়ে নিজেরাই ‘বিচারক’ সেজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন একাংশ বিজেপি নেতা-কর্মী। কোথাও জরিমানা করা হচ্ছে, কোথাও চাষ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, রায়না-২ ব্লকের এক নেতার পুকুর থেকে কয়েক দিন আগে জোর করে মাছ তুলে নিয়ে গিয়েছে নব্য বিজেপি কর্মীরা। শুধু তাই নয়, তাঁর কৃষিকাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে বর্ধমান-১ ব্লকেও একাধিক তৃণমূল নেতাকে জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি যাঁরা এলাকা ছেড়ে বাইরে রয়েছেন, তাঁদেরও জরিমানা মিটিয়ে তবেই এলাকায় ফেরার ‘পরামর্শ’ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

রায়নার এক তৃণমূল নেতা বলেন, 'যাঁরা আগে সিপিএম করতেন, তাঁরাই রাতারাতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু পুরনো অভ্যাস বদলাতে পারেননি। কেউ অপরাধ করলে আদালত বিচার করবে। কিন্তু এঁরা নিজেরাই বিচারক হয়ে উঠেছেন।'

জামালপুরের এক তৃণমূল নেতা দাবি করেন, নিজের বাড়ির শৌচালয় সংস্কারের কাজ চলাকালীন এক বিজেপি নেতা বাধা দেন। নির্দেশ না মানায় পরে তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ।

এদিকে, নব্য বিজেপি নেতাদের এই আচরণে অস্বস্তিতে দলেরই একাংশ প্রবীণ নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সংগঠন করেছেন, তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন সদ্য দলবদল করা কিছু নেতা।

বিজেপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, 'এসব শুনতেও লজ্জা লাগে। এত বছর ধরে দল করছি, আমাদের বিরুদ্ধে কখনও এমন অভিযোগ ওঠেনি। হঠাৎ বিজেপিতে এসে কেউ কেউ তোলাবাজি ও জুলুমবাজি শুরু করেছেন।'

সংবাদমাধ্যমকে গলসির বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্র অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। তাঁর কথায়, 'যাঁরা অন্যায় করবেন, তাঁদের দায় দল নেবে না। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। অন্য দল থেকে এসে যদি কেউ মানুষের উপর অত্যাচার করেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা হবে।'

Advertisement

অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমকে তৃণমূল নেতা দেবু টুডুর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'তৃণমূল করা কোনও অপরাধ নয়। মিথ্যা মামলায় নেতা-কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে। এটা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।'

সিপিএমের এক নেতা বলেন, 'যাঁরা অত্যাচার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হওয়া উচিত। তবে সবকিছুর জন্য সিপিএমকে দায়ী করার কোনও অর্থ নেই।'

বিজেপির অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দলের একাংশের মতে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে তার মূল্য দিতে হতে পারে। বিশেষ করে ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

 

POST A COMMENT
Advertisement