ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবআশঙ্কাই সত্যি হল। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর বা আইএমডি সোমবার সকালেই জানাল, গভীর নিম্নচাপটি ইতিমধ্যেই শক্তি বাড়িয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এ পরিণত হয়েছে। যার ফলে অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। তাই আর সময় নষ্ট না করে ঘূর্ণিঝড়ের লেটেস্ট আপডেট সম্পর্কে জেনে নিন।
কোথায় রয়েছে ঘূর্ণিঝড়?
আইএমডি আজ সকালেই জানিয়েছে, গত ৬ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে এগিয়ে পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়েছে। সেটি ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এ পরিণত হয়েছে।
আজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল। এর অবস্থান ছিল ১৫.৪° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৯° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের শ্রী বিজয়পুরম থেকে প্রায় ৫৯০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, মছলিপত্তনম থেকে ৮৩০ কিলোমিটার পূর্বে এবং বাপটলা থেকে ৯১০ কিলোমিটার পূর্বে রয়েছে।
আইএমডি আরও জানিয়েছে, আজ অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে। তারপর মধ্যরাতের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও শক্তি বাড়িয়ে নিতে পারে সিস্টেমটি। এরপর এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তারপর ২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার একই অঞ্চলে সেটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে। সেটি ২৮ অক্টোবর সকালেই বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। সেই সময় তীব্র ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
আসলে উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। এছাড়া দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। আর সেটাই বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে এই পরিস্থিতিতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া বদলে যেতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলির কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কয়েকটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতেও পারে। তবে উত্তরবঙ্গে তেমন কোনও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
বুধবার থেকে আরও বাড়বে দুর্যোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের দুই এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার এক ও দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।