
সাইক্লোন ইয়াসের মোকাবিলায় তুঙ্গে প্রস্তুতিশনিবারই পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়। রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ সেই নিম্নচার গভীর নিম্নচাপের রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া দফতর বলছে সোমবার সকালেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে ‘ইয়াস'। ২৫ মে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে। গতবছর করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আম্ফানের মোকাবিলা করা চ্যালেঞ্জ ছিল রাজ্য সরকারের কাছে। একবছর পর ফের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি। এই আবহে সংক্রমণ আটকাতে কার্যত বাংলায় চলছে লকডাউন। আরোপ করা হয়েছে একাধিক বিধিনিষেধ। কিন্তু সাইক্লোন ইয়াসের মোকাবিলা করতে গিয়ে সেই কড়া বিধিনিষেধেই এবার খানিকটা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। এই নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিত জারি করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।
কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হচ্ছে
নবান্নের তরফে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, চাষের কাজ, উদ্যানপালনের কাজে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ, সার নিয়ে যাতায়াতের জন্য পরিবহণের ক্ষেত্রও ছাড়ের আওায় থাকবে। বন্যা ও বর্ষা মোকাবিলায় যাবতীয় কাজেও কোনও বাধা থাকবে না এই সময়ে। যদিও সমস্ত ক্ষেত্রেই মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহারের উপর ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না । ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে রাজ্যের ২৩টি জেলাতেই।

করোনার মাঝে ঘূর্ণিঝড়ের আগমন নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া মাত্র বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে থেকে প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনকে। নবান্নের শীর্ষ কর্তা থেকে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে আলিপুর হাওয়া অফিসের তরফে নবান্নকে ঝড়ের সমস্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে। । বৈঠকের পর এক সোশ্যাল পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র ও রাজ্যের পদস্থ আধিকারিক, জেলাশাসক ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করলাম। আধিকারিকদের দ্রুত ঝড় মোকাবিলার আগাম পরিকল্পনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্র উপকূল ও নদীর পাড় থেকে মানুষকে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাত্রাণ কেন্দ্রে মানুষকে দ্রুত স্থানান্তর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত শুরু করতে বলা হয়েছে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ। মৎস্যজীবীদের দ্রুত উপকূলে ফিরতে বলা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন। নম্বর ১০৭০ ও ০৩৩ – ২২১৪৩৫২৬। সমস্ত সংস্থাকে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণসামগ্রী পাঠানো শুরু হয়েছে। তৎপর থাকতে বলা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিমকে। সবাইকে সাবধান থাকতে অনুরোধ করছি।’
ইয়াস নিয়ে উদ্বেগ মোদীরও
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় রাজ্যগুলিকে প্রস্তুতি নিতে শনিবারই চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে রবিবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিদ্যুৎ, টেলিকম বিভাগের আধিকারিকরা। ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন মোদী। ইতিমধ্যেই সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ৪৩টি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে ইয়াসের মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।
ইয়াসের গতিপথ
ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে ঘনীভূত হচ্ছে ইয়াস। রবিবার দুপুরে দিঘা থেকে এটি ৬৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বলে জানায় আবহাওয়া দফতর। বুধবার সন্ধে নাগাদ পারাদ্বীপ এবং সাগর দ্বীপের মাঝে কোনও এলাকায় আছড়ে পড়বে ইয়াস। সেই কারণে রবিবারের মধ্যেই মত্স্যজীবীদের সমুদ্র থেকে স্থলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। সোমবার ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে ইয়াস। আর বুধবার স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস, এমনটাই পূর্বাভাস দিচ্ছে হাওয়া অফিস। সোমবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর মঙ্গলবারের মধ্যে তা অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বুধবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার স্থলভাগে পৌঁছনোর কথা ইয়াস-এর। আলিপুর জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রূপে ইয়াস ওড়িশার পারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলা থেকেই ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। বুধবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ হবে ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার।