পঞ্চায়েত অফিসে কাজে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন TMC প্রধান।Dattapukur News: দেড় মাস জেল হেফাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। তার পরেই পঞ্চায়েত অফিসে কাজে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তিনি। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, বিক্ষোভের সময় পঞ্চায়েত প্রধানকে কাদা ছোড়া হয়। তাঁকে মারধরও করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের কাশিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায় বলে জানা গিয়েছে।
দেড় মাস জেলে থাকার পর পঞ্চায়েতে ফিরলেন প্রধান
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান মেঘনাথ দাস একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। প্রায় দেড় মাস জেলে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান তিনি।
জামিন পাওয়ার পর শনিবার পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছন মেঘনাথ। উদ্দেশ্য ছিল পঞ্চায়েতের কাজে যোগ দেওয়া। কিন্তু অফিসে পৌঁছতেই পরিস্থিতি বদলে যায়।
তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পঞ্চায়েত চত্বর।
কাদা ছোড়ার অভিযোগ, মারধর নিয়েও বিতর্ক
বিক্ষোভের সময় মেঘনাথ দাসকে লক্ষ্য করে কাদা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁকে মারধরও করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার জেরে পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, মেঘনাথের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এটি জনরোষ, দাবি বিজেপি কর্মীদের।
কেন গ্রেফতার হয়েছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান?
বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, ভোটের আগে কাশিমপুর এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের উপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং তোলাবাজির মতো ঘটনায় মেঘনাথ দাসের নাম জড়িয়েছিল।
বিজেপির দাবি, ওই সব ঘটনার মূল অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
প্রায় দেড় মাস জেলে থাকার পর আদালত থেকে জামিন পান মেঘনাথ। তার পরেই তিনি ফের পঞ্চায়েত অফিসে যান।
পঞ্চায়েতে ফিরতেই কেন বিক্ষোভ?
মেঘনাথের জামিনে মুক্তির পর তাঁর পঞ্চায়েতে ফেরাকে কেন্দ্র করেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, যাঁর বিরুদ্ধে ভোটের আগে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে, তিনি কী ভাবে আবার পঞ্চায়েতের কাজে ফিরতে পারেন; এই প্রশ্নেই তাঁরা প্রতিবাদ করছেন।
পঞ্চায়েত অফিসে কাজ ব্যাহত
বিক্ষোভের জেরে পঞ্চায়েত অফিসে কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে। অফিসের সামনে জমায়েত হওয়ায় সাধারণ মানুষ এবং পঞ্চায়েত কর্মীদের মধ্যেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও বড় আকার না নেয়, সে জন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সংবাদদাতা: দীপক দেবনাথ