DG Rajeev Kumar: বিদায়ী ভাষণে পুলিশের 'সৎ সাহসের' তারিফ রাজীব কুমারের, পাল্টা দিলেন সুকান্ত

সৎ সাহস থাকলে প্রাণহানি ছাড়াই যে কোনও সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব, বিদায়ী ভাষণে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। তবে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজীব কুমারের বক্তব্যের পাল্টা কটাক্ষ করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, তাঁর সময়েই বাংলায় একের পর এক দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

Advertisement
বিদায়ী ভাষণে পুলিশের 'সৎ সাহসের' তারিফ রাজীব কুমারের, পাল্টা দিলেন সুকান্তগ্রাফিক্স: শঙ্খ দাস
হাইলাইটস
  • সৎ সাহস থাকলে প্রাণহানি ছাড়াই যে কোনও সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব, বিদায়ী ভাষণে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার।
  • তবে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সৎ সাহস থাকলে প্রাণহানি ছাড়াই যে কোনও সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব, বিদায়ী ভাষণে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। তবে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজীব কুমারের বক্তব্যের পাল্টা কটাক্ষ করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, তাঁর সময়েই বাংলায় একের পর এক দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নিজের বিদায় সংবর্ধনায় রাজীব কুমার বলেন, 'আমরা ডিউটির প্রয়োজনে প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকি, এটাই আমাদের গর্ব। এই মানসিকতা আসে সৎ সাহস থেকে। আমাদের সামনে বহু সমস্যা আসে, কিন্তু সৎ সাহস বজায় রাখতে পারলে সেগুলির মোকাবিলা করা যায়।' তিনি আরও স্পষ্ট করেন, 'সাহস মানে গুলি চালানো বা মানুষ মারা নয়। সাহস মানে রুখে দাঁড়ানো এবং নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকা।'

রাজীব কুমারের বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বের কথাও। তিনি বলেন, কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের সমন্বিত কাজের ফলেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমাদের রাজ্য স্ট্র্যাটেজিক্যাল ও জিওপলিটিক্যালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। ফলে চ্যালেঞ্জ অন্য রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি। তবু শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনারা যে কাজ করে যাচ্ছেন, তাতে আমরা গর্বিত।' 

এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'এই রাজীব কুমারই এক সময় বলেছিলেন, আমার পুলিশের দিকে একটা গুলি ছোড়া হলে আমি তিনটে গুলি চালাব। আজ তিনি সাহসের অন্য সংজ্ঞা দিচ্ছেন। আপনার সময়েই তো বাংলায় একের পর এক দাঙ্গা হয়েছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। চন্দন ও হরগোবিন্দের মতো হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে আপনার আমলেই।'

উল্লেখ্য, ৩১ জানুয়ারি রাজ্য পুলিশের ডিজি হিসেবে রাজীব কুমারের কর্মজীবনের শেষ দিন। তবে তাঁর অবসর ঘিরে জটিলতা আরও বেড়েছে। ডিজি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় ক্যাটের নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইউপিএসসি। এর মধ্যেই ইউপিএসসি-র বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার।

Advertisement

রাজ্য সরকার চাইছে, অবসর সত্ত্বেও রাজীব কুমারকেই ডিজি হিসেবে বহাল রাখতে। সেই কারণে ২১ জানুয়ারি ইউপিএসসি-তে আটজন আইপিএস অফিসারের নাম পাঠানো হয়, যার মধ্যে রাজীব কুমারের নামও রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ইউপিএসসি-র তিনজনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা পাঠানোর কথা। কিন্তু সেই তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ইউপিএসসি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ায় আইনি জট আরও বেড়েছে।

গত বছরের নভেম্বর মাসে ক্যাটে মামলা করেন রাজেশ কুমার। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজ্যের তরফে নাম প্রস্তাব করা হলেও ইউপিএসসি-র একটি বৈঠকে রাজীব কুমার, রাজেশ কুমার ও রণবীর কুমারের নাম বাদ দেওয়া হয়। এই সমস্ত আইনি টানাপোড়েনের মাঝেই রাজ্য পুলিশের শীর্ষপদ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement