পচা খাবার খেলে কি ইমিউনিটি বাড়ে?কলকাতা ও শহরতলির খাবারের দোকানে নিয়ম করে ঢুঁ মারছেন আধিকারিকরা। সেখানে পচা মাছ, মাংস, সবজি, পনির উদ্ধার হচ্ছে। কোথাও দেখা যাচ্ছে, খাবারে মেশানো হচ্ছে বাণিজ্যিক রং। কোথাও আবার এমন জায়গায় রান্না করা হচ্ছে, যেটা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। আর কোনও ছোটখাটো দোকান নয়, বড় বড় সব রেস্তোরাঁর হালও এমন। আর এই খবর সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অদ্ভুত কথা বলছেন একাংশের মানুষ। তাঁদের দাবি, নিয়মিত এই সব পচা খাবার খেয়ে আদতে বাঙালিদের ইমিউনিটি বেড়ে গিয়েছে। তাই এই সব খাবার খেয়েও দিব্যি কেটে যাচ্ছে। কোনও সমস্যা হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এই ধারণা কি আদৌ ঠিক? সত্যিই কি অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে ইমিউনিটি বেড়ে যায়? আর এই বিষয়টা সম্পর্কে জানতেই আমরা যোগাযোগ করেছিলাম বিশিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে। আর এই প্রশ্ন শুনেই তাঁদের উত্তর, 'না, পচা, বাসি খাবার খেয়ে কোনওভাবেই ইমিউনিটি বাড়ে না।' এটা ভুল ধারণা।
এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: রজত বাসু বলেন, 'পচা খাবার খেলে শরীরের কোনও ইমিউনিটি বাড়ে না। এটা ভুল ধারণা। বরং দীর্ঘমেয়াদে এই সব খাবার খেলে বড় রোগ হতে পারে।'
এই একই মত বিশিষ্ট মেডিসিনের চিকিৎসক ডা: রুদ্রজিৎ পালের। তাঁর কথায়, 'কলকাতার এই সব বড় বড় দোকানের খাবারের এই হাল। বাসি, পচা, বাণিজ্যিক রং মেশানো খাবার দিচ্ছে। এতে শরীরের বড়সড় ক্ষতি হতে পারে। আর এই সব খাবার খেয়ে কোনও ইমিউনিটি বাড়ে না।'
তাহলে কেন অনেকের কিছু হচ্ছে না?
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডা: পাল বলেন, 'যাঁদের সমস্যা হচ্ছে না, তাঁরা খুবই লাকি। কারণ, পচা খাবার খেলে সমস্যা তো হবেই। আর একটা বিষয় হল, অনেকেই সমস্যা হলেও সেটাকে অবহেলা করেন। ছোটখাটো সমস্যা ভেবে আমল দেন না। এই কারণেই তো বাঙালির সারা বছর পেটের সমস্যা লেগে থাকে।'
ডা: বাসু বলেন, 'সমস্যা তো হয়ই। কিন্তু মানুষ সেই দিকে নজর দেন না। পেট খারাপ হলে একটা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে নেন। আবার গ্যাস হলে গিলে নেনে অ্যান্টাসিড। এভাবেই চলছে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদে বড় জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।'
কী কী সমস্যা হতে পারে?
ডা: বাসু জানালেন, পচা মাছ, মাংসের মধ্যে বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। সেটা পেটের বড় ক্ষতি করতে পারে। এর জন্য ডায়েরিয়া থেকে শুরু করে বড়সড় সমস্যা হতে পারে। এছাড়া খাবারে বাণিজ্যিক রং মেশানোর প্রভাব হতে পারে আরও খারাপ। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই সকলকে খাবার নিয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিলেন এই দুই চিকিৎসক। বাইরের বদলে বাড়িতে খাবার খাওয়ার দিলেন পরামর্শ। তাহলেই শরীর সুস্থ থাকবে বলে জানালেন তিনি।