কেতন খুনের আগেই সিয়া-চেতনের বিয়ে কি হয়েছিল? মন্দিরের CCTV ফুটেজ দেখেও ধাঁধায় পুলিশ

পুলিশের অভিযোগ, ২০ বছর বয়সী সিয়া গোয়াল এবং তাঁর ২২ বছরের প্রেমিক চেতন চৌধুরী গত ১৮ জুন পুনে জেলার লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের সময় সিয়ার ২৫ বছরের বাগদত্তা কেতন আগরওয়ালকে গিরিখাতে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই অভিযুক্তের সম্পর্ক, গতিবিধি এবং পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

Advertisement
কেতন খুনের আগেই সিয়া-চেতনের বিয়ে কি হয়েছিল? মন্দিরের CCTV ফুটেজ দেখেও ধাঁধায় পুলিশঅভিযুক্ত সিয়া গোয়েল।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে এবার রাজস্থানে পৌঁছেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
  • তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল সেই মন্দির, যেখানে অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরী গোপনে বিয়ে করেছিলেন বলে দাবি উঠেছে।

পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে এবার রাজস্থানে পৌঁছেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল সেই মন্দির, যেখানে অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরী গোপনে বিয়ে করেছিলেন বলে দাবি উঠেছে। তবে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ ও নথিপত্র খতিয়ে দেখেও তাঁদের বিয়ের কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি।

পুলিশের অভিযোগ, ২০ বছর বয়সী সিয়া গোয়াল এবং তাঁর ২২ বছরের প্রেমিক চেতন চৌধুরী গত ১৮ জুন পুনে জেলার লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের সময় সিয়ার ২৫ বছরের বাগদত্তা কেতন আগরওয়ালকে গিরিখাতে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই অভিযুক্তের সম্পর্ক, গতিবিধি এবং পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

চ্যাট থেকেই রাজস্থার সূত্র
তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া চ্যাট বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, গত বছরের ডিসেম্বরে সিয়া ও চেতন নাকি কাউকে না জানিয়ে রাজস্থার একটি মন্দিরে বিয়ে করেছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল রাজস্থানে যায়।

তদন্তকারীরা মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখেন। পাশাপাশি মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন নথিও পরীক্ষা করা হয়। আশা ছিল, সেখানে তাঁদের উপস্থিতি বা বিয়ের কোনও প্রমাণ মিলতে পারে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এমন কোনও ভিডিও ফুটেজ বা নথি পাওয়া যায়নি, যা ওই বিয়ের দাবি নিশ্চিত করে।

পুনে গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক জানান, মন্দির প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হলেও বিয়ের দাবিকে সমর্থন করার মতো কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনও মেলেনি।

শুধু বিয়ের তথ্য নয়, খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুরো পরিকল্পনা
তদন্তকারীদের দাবি, রাজস্থান সফরের উদ্দেশ্য শুধু বিয়ের বিষয়টি যাচাই করা নয়। বরং দুই অভিযুক্তের সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ সময়রেখা তৈরি করাও তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। পুলিশ জানতে চাইছে, কথিত বিয়ের পর থেকেই কি কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল, নাকি হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোনও পরিস্থিতির ফল।

Advertisement

এই কারণে মোবাইল ফোনের চ্যাট, কল রেকর্ড, লোকেশন ডেটা এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণই এই মামলার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

তদন্ত অব্যাহত
কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলাটি মহারাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজস্থান বা অন্য কোনও রাজ্য থেকে নতুন তথ্য বা প্রমাণ মিললে তা তদন্তে যুক্ত করা হবে। বর্তমানে সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরী বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। মামলার প্রতিটি সূত্র জুড়ে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।

 

POST A COMMENT
Advertisement