
দিঘায় নির্মিত জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক। মন্দিরের নামের সঙ্গে যুক্ত ‘জগন্নাথ ধাম’ শব্দবন্ধ সরানোর দাবি তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব এবং পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত সমাজ। তাঁদের আশা, ৯ মে বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি আগেই (মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা না দিতে চাওয়া) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, দীঘার মন্দিরটিকে যেন ‘জগন্নাথ ধাম’ বলা না হয়। বিজেপি নেতৃত্ব বাংলার বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচনের জন্য মাঝিকেই কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষক করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তিনিই সম্ভবত বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন।
পুরীর প্রাক্তন রাজপরিবারের প্রধান তথা গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেবও দীঘার মন্দিরের নামের সঙ্গে ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন। ওড়িশা বিজেপির সহ-সভাপতি গোলক মহাপাত্র জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠনের পর এই সমস্যার সমাধান হবে এবং নামের শেষ থেকে ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হবে।
ওড়িশা বিজেপির এক প্রবীণ নেতা দাবি করেছেন, মোহন চরণ মাঝি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দুজনেই এই বিষয়ে উদ্যোগী হবেন এবং নতুন সরকারকে ‘ধাম’ শব্দটি সরাতে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রবীণ সেবায়েত জগন্নাথ সোয়াইন মহাপাত্র জানিয়েছেন, জগন্নাথ মন্দির পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় থাকতে পারে, কিন্তু ‘জগন্নাথ ধাম’ একটাই, তা হল পুরী। তাঁর দাবি, বাংলার নতুন নেতৃত্ব যেন দ্রুত এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মন্দিরটির নামকরণ করা হয় ‘জগন্নাথ ধাম, দীঘা’। সেই থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।
মোহন চরণ মাঝি তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন, পুরীর জগন্নাথ ধাম হিন্দুধর্মের চারধামের অন্যতম এবং এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা। তাই অন্য কোনও মন্দিরের ক্ষেত্রে এই নাম ব্যবহার করা হলে তা পুরীর ঐতিহ্যকে ম্লান করার পাশাপাশি ভক্তদের অনুভূতিতেও আঘাত হানতে পারে।