বঙ্গোপসাগরের উপকূলে প্রায় ৮.৭৩ একর জমিতে তৈরি হবে এই কেন্দ্র।পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হতে চলেছে DRDO-র নতুন মিসাইল পরীক্ষাকেন্দ্র। পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে এই পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে প্রায় ৮.৭৩ একর জমিতে তৈরি হবে এই কেন্দ্র। এর ফলে ওড়িশার চাঁদিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের উপর চাপ অনেকটাই কমতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই জুনপুটে এই প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ এগোয়নি। এ বার সেই জট কাটিয়ে প্রকল্পটি ফের গতি পেয়েছে। রাজ্য সরকার এবং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO-র সমন্বয়ে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির কাজ এগোবে।
জুনপুটের অবস্থান এই প্রকল্পের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এই এলাকা চাঁদিপুর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ১৭৭ কিলোমিটার। আর দিঘা থেকে জুনপুট প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে।
সমুদ্রের কাছে হওয়ায় মিসাইল পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ সমুদ্রপথ বা টেস্টিং করিডর পাওয়া যাবে। পরীক্ষার সময় নির্দিষ্ট সমুদ্র এলাকায় সাময়িক ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। নিরাপত্তার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা বা মৎস্যজীবীদের কিছু সময়ের জন্য অন্যত্র সরানোও হতে পারে। তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন মিসাইল পরীক্ষাকেন্দ্র কেন প্রয়োজন?
ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে চাঁদিপুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু বছর ধরে সেখানে বিভিন্ন ধরনের মিসাইল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা হয়ে আসছে। পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ায় চাঁদিপুরের উপর চাপও বেড়েছে।
নতুন জুনপুট কেন্দ্র তৈরি হলে কাজের ভাগাভাগি করা সম্ভব হবে। মূলত কম দূরত্বের মিসাইল এবং বিভিন্ন রাডার ব্যবস্থার পরীক্ষা জুনপুটে করা যেতে পারে। অন্য দিকে, চাঁদিপুরে দীর্ঘপাল্লার এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মিসাইলের পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে।
এর ফলে একই জায়গায় সব পরীক্ষার চাপ থাকবে না। পরীক্ষার সময়ও আরও ভাল ভাবে পরিকল্পনা করা যাবে। বাড়তে পারে সামগ্রিক পরীক্ষার ক্ষমতা।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এর গুরুত্বও যথেষ্ট। ভারতের সীমান্তে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফলে নতুন মিসাইল ও অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন। জুনপুটে নতুন কেন্দ্র তৈরি হলে সেই কাজ আরও দ্রুত হতে পারে।
বহু দিন ধরে এই প্রকল্প আটকে ছিল
জুনপুটে DRDO-র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নতুন নয়। চাঁদিপুরের অতিরিক্ত পরীক্ষাক্ষেত্র হিসাবেই জুনপুটকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। জমি সংক্রান্ত কাজের পাশাপাশি বেশ কিছু পরিকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়েছিল।
তবে প্রশাসনিক সমস্যা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগের কারণে প্রকল্পটি থমকে যায়। বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মিসাইল পরীক্ষা হলে সমুদ্রের নির্দিষ্ট অংশে মাছ ধরায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। তাতে তাঁদের জীবিকায় প্রভাব পড়তে পারে।
এ বার সেই সমস্যাগুলি মিটিয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ হয়েছে।
বাংলায় করে কী লাভ?
শুধু দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নয়, জুনপুটে DRDO-র কেন্দ্র তৈরি হলে পশ্চিমবঙ্গও লাভবান হতে পারে। প্রকল্প তৈরির সময় এবং পরে কেন্দ্রটি চালু হলে স্থানীয় এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
দক্ষ এবং অদক্ষ; দুই ধরনের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পরিকাঠামোর উন্নতিও হতে পারে। প্রতিরক্ষা গবেষণার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগ আরও শক্তিশালী হবে।