বুদবুদ থানার ওসির বাড়িতে ইডি।-ফাইল ছবিআজ, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফের অ্যাকশন মোডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কয়লা পাচার মামলায় অর্থ তছরুপের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল-সহ রাজ্যের মোট ১২টি জায়গায় চলছে এই অভিযান। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডেও এই মামলার সূত্রে আগেও একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েছে ইডি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতেই বাংলায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। কয়লা চুরির নেটওয়ার্ক, পাচারের রুট এবং সেই সঙ্গে জড়িত আর্থিক লেনদেনের সূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইডির দাবি, এই কয়লা কেলেঙ্কারি কোনও একটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে স্পষ্ট যোগ রয়েছে এবং একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে এই সিন্ডিকেট।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকাল হতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বুদবুদ থানার নতুন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে টানা তল্লাশি শুরু করেন ইডির আধিকারিকরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখনও পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বুদবুদ থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁর বাড়িতে এই হাই-ভোল্টেজ অভিযান ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, সকাল থেকেই ইডির একটি দল মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজ খতিয়ে দেখছেন। অভিযানের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে মনোরঞ্জন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরে তাঁকে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখান থেকেই সম্প্রতি তাঁকে বুদবুদ থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ইডির এই অভিযান নতুন করে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
শুধু ওসির বাড়িতেই নয়, একই সঙ্গে দুর্গাপুর, পাণ্ডবেশ্বর এবং কাঁকসা এলাকাতেও ইডির তল্লাশি অভিযান চলছে। দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপ এলাকায় বালু ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি পাণ্ডবেশ্বর ও কাঁকসায় একাধিক বালু ও কয়লা ব্যবসায়ীর বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে। পানাগড় এবং কাঁকসার বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসায়ীদের সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে একযোগে তল্লাশি চলে।
জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ জন ইডি আধিকারিক একাধিক দলে ভাগ হয়ে অফিস ও বাসভবনে তল্লাশি চালাচ্ছেন। ভোর থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। এই অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এদিকে, আজই সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক এবং ইডি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি রয়েছে। তবে ইডি সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই তল্লাশির সঙ্গে আইপ্যাক মামলার কোনও যোগ নেই। উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের ফ্ল্যাট ও অফিসেও ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে ইডির বিরুদ্ধে ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযানের অভিযোগ তোলেন।