অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান,শাস্তি পাচ্ছে দুষ্কতীরও; শুভেন্দুদের দরাজ প্রশংসা রাজ্যপালের

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশন। অধিবেশনের সূচনায় রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁর ভাষণে নবগঠিত বিজেপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি রাজ্যে অনুপ্রবেশ এবং তার প্রভাবে জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।

Advertisement
অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান,শাস্তি পাচ্ছে দুষ্কতীরও; শুভেন্দুদের দরাজ প্রশংসা রাজ্যপালের
হাইলাইটস
  • বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশন।
  • অধিবেশনের সূচনায় রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁর ভাষণে নবগঠিত বিজেপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার প্রশংসা করেন।

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার অপরাধীচক্র, সিন্ডিকেটরাজ এবং অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। তিনি স্পষ্ট জানান, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

বিধানসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব সমাজবিরোধী ও অপরাধীচক্র রাজনৈতিক প্রশ্রয় পেয়ে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং অপরাধের বিরুদ্ধে কোনওরকম আপস করা হবে না।

অবৈধ বিদেশিদের প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান শোনা যায় রাজ্যপালের বক্তব্যে। তিনি জানান, রাজ্যে অবস্থানকারী অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজ্যপাল আরও বলেন, বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘হুমকির সংস্কৃতি’ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটরাজের অবসান ঘটাতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তোলাবাজি, বেআইনি বালি ও কয়লা পাচারের মতো কার্যকলাপের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নারী নিরাপত্তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের সুরক্ষার বিষয়েও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন রাজ্যপাল। তাঁর কথায়, অত্যাচার ও অপরাধের ঘটনায় প্রশাসন কোনওরকম শৈথিল্য দেখাবে না।

শুধু আইনশৃঙ্খলাই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন সরকার। রাজ্যপাল জানান, পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প-বান্ধব রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং উন্নয়নমুখী প্রশাসনের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশনে দেওয়া এই ভাষণকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যপালের বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আগামী দিনের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement