
রাজ্যে নিপা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটার আগেই এলো দুঃসংবাদ। নিপা সংক্রমণে আক্রান্ত এক মহিলা নার্সের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। এটিই এ রাজ্যে নিপা ভাইরাসে প্রথম প্রাণহানি বলে জানা গিয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কোনও বিবৃতি মেলেনি। বৃহস্পতিবার সকালে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল bangla.aajtak.in. হাসপাতালের এক পদস্থ কর্তা নার্সের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
গত ৪ জানুয়ারি থেকে অসুস্থ ছিলেন ওই নার্স। প্রথমে জ্বর ও ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কাটোয়া, পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং সেখান থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। রক্তপরীক্ষায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ১৪ জানুয়ারি থেকে বারাসতের যে বেসরকারি হাসপাতালে তিনি কর্মরত ছিলেন, সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
ক'য়েক দিনের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় এবং তিনি কোমায় চলে যান। দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা করা হয়। গত মাসের শেষে কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে সরানো হলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তিনি এখনও সংকটমুক্ত নন। শেষ পর্যন্ত সংক্রমণের জেরে শরীরে যে বহুমাত্রিক ক্ষতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
আরও এক পুরুষ নার্স নিপায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চলতি বছরের শুরুতেই এই দুই নার্সের সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই স্বাস্থ্য দফতর তৎপর হয়। সংস্পর্শে আসা ৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের কারও শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
উৎস অনুসন্ধানে বন দফতর ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির যৌথ উদ্যোগে কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯টি বাদুড় ধরে পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটির শরীর থেকে তিন ধরনের সোয়াব নিয়ে আরটিপিসিআর টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় সবকটি বাদুড়ের রিপোর্ট নিপা নেগেটিভ আসে। তবে একটি বাদুড়ে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায়, অতীতে সেটি নিপা সংক্রমণ বহন করেছিল।
বর্তমানে বাদুড়ের শরীরে সক্রিয় ভাইরাসের উপস্থিতি না মিললেও এই মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।