পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার আপডেটপশ্চিমবঙ্গজুড়ে আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। একদিকে বজ্রঝড়ের দাপট ক্রমশ বাড়বে, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া ভোগান্তি বাড়াবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় পূর্ব উত্তরপ্রদেশ থেকে বিহার, ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণ বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব উত্তরপ্রদেশের ওপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তও এই অক্ষরেখার সঙ্গে মিশে গেছে। এর জেরেই বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রাজ্যে ঢুকছে, যা আগামী কয়েক দিনে আবহাওয়াকে আরও অস্থির করে তুলবে।
এই পরিস্থিতির জেরে ২৫ এপ্রিল থেকে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে পূর্বাভাস। তার আগে, ২৪ ও ২৫ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া অস্বস্তি বাড়াবে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে, আর উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলে তা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণও বেশ বেশি থাকবে, উপকূল এলাকায় ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত।
তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। আগামী দু’দিন তাপমাত্রায় বিশেষ হেরফের না হলেও, তার পরবর্তী পাঁচ দিনে ধীরে ধীরে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ২৪ এপ্রিল থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রঝড় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে দমকা হাওয়া (৪০-৫০ কিমি/ঘণ্টা) সহ বজ্রঝড় হতে পারে। ২৫ এপ্রিল থেকে বৃষ্টি আরও বাড়বে এবং ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে প্রায় সমস্ত জেলাতেই মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের দাপট দেখা যেতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
২৭ ও ২৮ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ এপ্রিলেও একই প্রবণতা বজায় থাকবে, যদিও ৩০ এপ্রিল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।
এই আবহাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের উপর একাধিক প্রভাব পড়তে পারে। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অস্বস্তি, ক্লান্তি, ঘামাচি, ডিহাইড্রেশন ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। অন্যদিকে বজ্রঝড়ের সময় বজ্রপাত, গাছ উপড়ে পড়া বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কাও থাকে।