সুখেন্দুশেখর রায় বিজেপিতেবিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তিনি সবেমাত্র কলকাতায় বিজেপি সদর দফতরে প্রবেশ করেছেন। আজই দলের পতাকা নিতে পারেন বলে খবর মিলছে।
মাথায় রাখতে হবে, বাংলায় পালা বদলের পরই রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন সুখেন্দুশেখর রায়। এরপর একে একে সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকও রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। আর এবার সুখেন্দু বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন বলে খবর মিলেছে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন
২০২৬-এর ভোটে বিধানসভায় হেরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরই দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন সুখেন্দু। পাশাপাশি পদত্যাগ করেন রাজ্যসভা থেকে।
এই সময় তিনি বলেন, 'সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। ভোটাররা দলের ব্যাপক দুর্নীতি, নারীদের উপর চরম অত্যাচার এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান ও আইন-শৃঙ্খলা সহ সব ক্ষেত্রেই চরম ব্যর্থতা ও নৈরাজ্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।' এর ফলেই তৃণমূলে বড় ভাঙন নেমেছে বলে মনে করছেন তিনি।
সুখেন্দুর মতে, বাংলার মানুষ প্রথমবারের জন্য জনগণ বিপুল সংখ্যক আসনে বিজেপিকে জয়ী করেছেন। ইতিমধ্যেই নতুন সরকার তাদের ঘোষিত নির্বাচনী ইস্তাহার অনুযায়ী বাংলার সার্বিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
এরপরই তিনি জানিয়েছিলেন, জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে মাথা পেতে গ্রহণ করেছেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
যদিও তিনি দাবি করেন, আরজি করের সময় থেকেই দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন তিনি। অন্যদের মতো চুপ করে থাকেননি। আর এই কারণে তিনি দলের ভিতরেও কোণঠাসা হয়েছিলেন বলে আজ জানালেন সুখেন্দুশেখর।
যদিও শুধু একা সুখেন্দুশেখর নন, তৃণমূলের হারের পর একাধিক নেতাই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। বাড়িয়েছেন তৃণমূলের থেকে দূরত্ব। কিন্তু সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেননি। আর সেই রীতিই এবার ভেঙে দিলেন সুখেন্দুশেখর। তিনি তৃণমূল থেকে একবারে বিজেপির পথে। এখন দেখার তাঁর পিছু পিছু ঠিক কারা বিজেপিতে যোগ দেন।