
বেহাল দশা গোবরডাঙা দুলালী শিশু হাসপাতালের। ছবি: দীপক দেবনাথশিশুদের জন্য তৈরি হওয়া হাসপাতালের বেহাল দশা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে। করোনা সংক্রমণের প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্য়বস্থার বেহাল দশা ধরা পড়েছে।
এর মাঝে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা। যেখানে আশঙ্কা করা হচ্ছে, শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে। সেখানে একটি হাসপাতাল থাকলে তাদের চিকিৎসার অনেক সুবিধা হতে পারত। তবে অভিযোগ উঠেছে, এমন হাসপাতাল থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে।
১৯৭১ সালে গোবরডাঙার বাসিন্দা অমিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় গোবরডাঙ্গা গৈপুর এলাকায় দুলালী শিশু হাসপাতাল তৈরি করা হয়। অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাবেই হাসপাতাল বর্তমানে ভগ্নদশা। ৩৫ শয্যার দুলালী শিশু হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারও রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বেশ কয়েক বছর দেখভাল করেছিল। বিদেশ থেকেও অনুদান এসেছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর অনেকগুলি কারণ উঠে আসছে।

চিকিৎসকের অভাবে প্রায় বন্ধ এই শিশু হাসপাতাল। দু'জন চিকিৎসক এবং একজন নার্স-সহ তিন জন স্বাস্থ্য কর্মী নিয়ে কোনও রকম ভাবে সপ্তাহে একদিন করে খোলা হয় এই হাসপাতালটি। তা-ও ঘন্টা দুয়েকের জন্য।
তিন জন স্বাস্থ্য কর্মী ৫ বছর টাকা না পেয়েও কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল শুরু থেকে কার্যত অসংখ্য রোগীর চাপ ছিল। এই হাসপাতাল বন্ধ থাকায় বর্তমানে গোবরডাঙ্গা-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষকে তাঁদের শিশুদের চিকিৎসার জন্য কলকাতা সহ অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
কার্যত প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ। করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে গোটা দেশ। একই অবস্থা রাজ্যেও। তার মধ্যে তৃতীয় ঢেউ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরই মধ্যে গোবরডাঙা শিশু হাসপাতাল তৈরির কয়েক বছর আগে ওপার বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ অত্যাচারিত হয়ে ভারতে আসেন। এবং গোবরডাঙা এলাকায় তাঁরা আশ্রয় নেন। তখন সেখানে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসার অভাব ছিল। আর ঠিক তখনই তাঁদের কথা মাথায় রেখে অমিয়া দেবী দুলালী শিশু হাসপাতাল তৈরি করা হয়।
১৯৯১ সালে হাসপাতাল উদ্বোধনের সময় সদ্যোজাত কন্যাসন্তান পাওয়া যায় হাসপাতাল চত্বর থেকে। সেই সন্তানটিকে তাঁরা লালন-পালন করেন এবং কন্যাসন্তানটির নাম রাখা হয়েছে দুলালী। তাই তাঁর নামেই হাসপাতালটি নামাঙ্কিত করা হয়।
যদিও বর্তমান স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গোবরডাঙ্গা-সহ পার্শ্ববর্তী প্রায় অনেক গ্রাম রয়েছে। এই কোভিড পরিস্থিতিতে তাঁরা এই গোবরডাঙ্গা শিশু হাসপাতালে নির্ভরশীল ছিলেন। তাই ফের হাসপাতালে চালু করা হলে অসংখ্য শিশু-সহ সাধারন মানুষ উপকৃত হবেন।
চিকিৎসকদের মতে, করোনার থার্ড ওয়েভ অর্থাৎ তৃতীয় পর্যায়ে আসতে চলেছে এবং সেই পর্যায়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শিশুদেরই বেশি। তাই শিশুদের নিয়ে চিন্তিত গোবরডাঙ্গার বাসিন্দারা।
তাঁদের কথা মাথায় রেখেই প্রয়োজন এই হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে পরিকাঠামো ঠিক করা। প্রত্যেকের একটাই দাবি। সরকার যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে। এবং দ্রুত হাসপাতালটিকে চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তাহলে সাধারণ মানুষ, শিশু প্রত্যেকেই উপকৃত হবেন। তবে এখন দেখার গোবরডাঙা-সহ পার্শ্ববর্তী বহু গ্রামের মানুষগুলোর আশা পূরণ হয় কিনা।