'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই অরাজকতা সৃষ্টি করছেন', হালিশহরে গাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগ মমতার।Halishahar News: 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তো অরাজকতা সৃষ্টি করছেন'। হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মী বীরজু কেওটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দুপুরে হালিশহরে বীরজুর বাড়িতে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে বেরোনোর সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর, কাদা এবং জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। তাঁকে লক্ষ্য করে 'চোর', 'ডাকাতরানি' স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার পরই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা।
মমতা বলেন, 'আমাদের গাড়িতে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে। কাস্টডিয়ান ডেথ হচ্ছে। বাংলা লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। পুলিশের সামনে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করছে লুম্পেনরা। পুলিশকে আমি দোষ দিই না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তো অরাজকতা সৃষ্টি করছেন।'
'পুলিশকে দোষ দিই না', বললেন মমতা
হালিশহরে নিজের গাড়িতে হামলার অভিযোগ তুললেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলেননি। বরং বলেন, 'পুলিশকে আমি দোষ দিই না।'
মমতার অভিযোগ, তাঁর কনভয়কে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়েছে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁদের উপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর কথায়, রাজ্যের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেও একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হচ্ছে।
বীরজুর বাড়িতে কেন গিয়েছিলেন মমতা?
শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয় বীরজু কেওটের। তিনি তৃণমূলের কর্মী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর।
পরিবারের অভিযোগ, বীরজুকে পুলিশ হেফাজতে মারধর এবং নির্যাতন করা হয়েছিল। এমনকি তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধরের অভিযোগও তুলেছেন তাঁর স্ত্রী। পরিবারের আরও দাবি, বীরজুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তের দাগ ছিল।
অন্য দিকে পুলিশের বক্তব্য, তোলাবাজি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বীরজুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারের পর নিয়ম মেনে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং পরে তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল।
এর পর পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বীরজু। তাঁকে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, গ্রেফতারের পর রাত ৯টা নাগাদ বীরজুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তাঁর স্ত্রী। তখন তিনি সুস্থ ছিলেন বলে দাবি পরিবারের। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। কেন এত দ্রুত তাঁর পরিস্থিতি খারাপ হল, সেই প্রশ্নই তুলছে পরিবার।
বীরজুর স্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন, তদন্তকারী আধিকারিক তাঁর স্বামীকে মারধর করেছিলেন। দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত এবং তদন্তের রিপোর্টেই স্পষ্ট হতে পারে।
বাড়ির গলি থেকে হেঁটে বেরোলেন মমতা
রবিবার দুপুর ২টো নাগাদ হালিশহরে বীরজুর বাড়িতে পৌঁছন মমতা। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বীরজুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার পর বাড়ির গলি দিয়ে বেরিয়ে আসেন মমতা। বাইরে তখন বিক্ষোভ চলছিল বলে অভিযোগ। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে মমতাকে কিছুটা পথ হেঁটে মূল রাস্তায় আসতে হয়। পরে পুলিশি ঘেরাটোপে তাঁকে গাড়িতে তোলা হয়। সেই সময়েই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, জুতো এবং পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
কল্যাণের দাবি, 'পরিকল্পিত চক্রান্ত'
মমতার সঙ্গে হালিশহরে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে।
কল্যাণ রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এত বড় ঘটনা পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে ঘটল, তার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।
শুধু প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগেই থামেননি কল্যাণ। তাঁর দাবি, এর পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
কল্যাণের বক্তব্য, মমতার উপর হামলার পরিস্থিতি আচমকা তৈরি হয়নি। এর পিছনে পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে বলেই তাঁর সন্দেহ। এমনকি মমতাকে আক্রমণ করার চক্রান্তের অভিযোগও তুলেছেন।