scorecardresearch
 

বাংলাদেশের বাসিন্দাদের ফাঁকি দিয়ে এই বাংলায় আসছে ইলিশ, চোরাপথে, তাতে কী !

বাংলাদেশ সরকার দেশীয় ইলিশের চাহিদা সামাল দিতে বন্ধ রেখেছ ইলিশ রফতানি। তবে সীমান্ত রয়েছে যে দেশের সঙ্গে, সেখানে কি করে আটকাবেন। ওদেশে দেদার উঠছে ইলিশ। আর চোরাপথে ওপার বাংলার ইলিশপ্রেমীদের বঞ্চিত করে চড়া দামে পশ্চিমবাংলার ইলিশপ্রেমীদের পাতে উঠছে সুস্বাদু পদ্মা-মেঘনার ইলিশ।

চোরাপথের ইলিশে কি স্বাদ খানিকটা বেশি ! চোরাপথের ইলিশে কি স্বাদ খানিকটা বেশি !
হাইলাইটস
  • চোরাপথে দেদার ঢুকছে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ
  • নদীপথেই পাঠানো হচ্ছে বেশিরভাগ ইলিশ
  • সুস্বাদু ইলিশ পেয়ে খুশি পশ্চিমবাংলার জনতা

বজ্র আঁটুনি, ফস্কা গেরো। তাছাড়া আর কি বলা যাবে। দেশে ইলিশের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রফতানি বন্ধ রেখেছে। অথচ চোরাপথে দেশের রাজস্বের ভাণ্ডারে কোপ দিয়ে তা দেদার ঢুকছে ভারতে। ফলে একদিকে চোরাপথে আসার দরুণ এক টাকাও ও দেশের কোষাগারে জমা পড়ছে না, অন্য়দিকে কিছু মানুষ মোটা টাকা গাঁটের কড়ি খসিয়ে দিব্যি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন পদ্মা-মেঘনার ইলিশ।

সরকারিভাবে বন্ধ, তাই চোরাপথেই ইলিশ

সরকারি ভাবে বাংলাদেশ সরকার এ দেশে ইলিশ রফতানি বন্ধ রেখেছে। কিন্তু এ রাজ্যের বাঙালিদের মধ্যে ওপার বাংলার ইলিশের চাহিদা প্রচুর। যে কারণে প্রতিবারই ইলিশের মরশুমে চোরাপথে এ দেশের কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশের ইলিশ আসে। পুলিশ-সীমান্তরক্ষীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ালেও আমবাঙালি অবশ্য পাতে ইলিশ পড়লেই খুশি।

এবারও চলছে ইলিশের চোরাচালান

এ বারই বা তার ব্যতিক্রম হবে কেন ? বিশেষ করে রাজ্যের বনগাঁ ও বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে ঢুকছে ইলিশ। কিছু পরিমাণ ঢুকছে উত্তরবঙ্গের হিলি সীমান্ত দিয়ে। এ দেশের মৎস্যজীবীদের জালে এ বার সে ভাবে ইলিশ না উঠলেও বাংলাদেশের সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ উঠছে। আর পাচারও পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই বিএসএফ একাধিক দফায় বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্ত থেকে ইলিশ পাচারের সময়ে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ আটক করেছে। একাধিক গ্রেফতারও করা হয়েছে।

কী ভাবে চোরাপথে ঢুকছে ইলিশ?

জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের আংরাইল ও হাকিমপুর সীমান্তে কাঁটাতার নেই। দু দেশের সীমানার মাঝে ইছামতী ও সোনাই নদী। সেখানে নেমে পড়ে দু’দেশের পাচারকারীরা। জলের মধ্যেই হাতবদল হয় ইলিশ-বোঝাই ব্যাগের। বাংলাদেশ থেকে নদীতে নেমে সাঁতরে এসে এ পারের নৌকোয় অনেকে মাছ তুলে দিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। যাঁরা চাষের কাজে রোজ ওপারে যান, তাঁরাও ইলিশের ব্যাগ নিয়ে ফেরেন। বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত দিয়েও ইলিশ ঢুকছে।

ব্যাগে করে দেশান্তরী হচ্ছে ইলিশ

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ১০ কেজি থেকে ১০০ কেজি ইলিশ একবারে আনে পাচারকারীরা। আবার কাঁটাতারের ওপার থেকে এ দিকে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে ইলিশ-বোঝাই ব্যাগ। ঘাসের বস্তায় ভরে তা নিয়ে চলে আসছেন এপারের পুরুষ-মহিলারা। এ কাজের জন্য ২০০-৩০০ টাকা পান তাঁরা। যা তাঁদের উপরি কামাই।

চড়া দামে হলেও সুস্বাদু ইলিশে লোভ এ বাংলার

কিছু বছর থেকেই দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার কথা বলে সরকারি ভাবে বাংলাদেশ সরকার এ দেশে ইলিশ রফতানি বন্ধ করে। এখন প্রতি বছর কয়েক টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয় বাংলাদেশ সরকার। রফতানি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই প্রতি বছর ইলিশের মরশুমে এ দেশে চোরাপথে ইলিশ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ। বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমার বাজারগুলিতে চড়া দামে গোপনে বিক্রি হচ্ছে পড়শি দেশের ইলিশ। সাইজ অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়। তবে স্বাদ স্থানীয় ও গঙ্গার ইলিশের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

বেশি ধরা পড়েও না

এ রাজ্যের ইলিশ আমদানিকারী সংস্থারগুলির দাবি সরকারিভাবে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রফতানি বন্ধ করার ফলে চোরাপথে ইলিশ পাচার বেড়ে গিয়েছে। তবে আগেও ইলিশ পাচার হত। তবে এদেশের নিরাপত্তারক্ষীরা গরু, অস্ত্র, সোনা পাচার ধরতে বেশি মনোযোগী। তাছাড়া ইলিশ ঢুকলে তা বড় কোনও অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি করে না। তাই তারাই কিছুটা ঢিলেঢালা ইলিশ ধরতে। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে কিছু লোক লাভ করলেও, গোটা রাজ্যেও এই ইলিশ তেমন যায় না। কিছুটা কলকাতায় পাঠানো হয় অবশ্য। 

অল্প পরিমাণ হওয়ায় চোরাই কি না, বোঝা মুশকিল হয়

পুলিশও অনেক সময় ধরেষ তবে সীমান্ত পার হয়ে গেলে চোরাই কিনা সব সময় বোঝা সম্ভব হয় না। ছোট ব্যাগে করে এ ধরনের পাচার হওয়ায় সহজে নজরে পড়ে না। মাছ বোঝাই ট্রাকে অন্য মাছের সঙ্গে বরফ চাপা দিয়ে আনা হলেও বোঝা মুশকিল হয়। তবে সাধারণ ইলিশপ্রেমীরা অবশ্য খুশি। চোরাই ইলিশে স্বাদ খানিকটা বেশিই কি না।

 

 
; ; ;