ব্রিগেডে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন হুমায়ুন।ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করার অনুমতি মেলেনি। শুক্রবার এমনটাই দাবি করলেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্য, সেনাবাহিনীর তরফে তাঁর দলের সভার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে সরব হন। হুমায়ুন কবীর জানান, গত ২২ ডিসেম্বর তিনি 'জনতা ইউনিয়ন পার্টি' তৈরি করেছেন। দল গঠনের পর থেকেই নানা মন্তব্য ও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছে। হুমায়ুনের কথায়, বাংলাকে বাঁচানোর প্রয়োজনেই তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছেন।
হুমায়ুনের দাবি, খেলা, মেলা, প্রলোভন, মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে মহাকালী মন্দিরের উদ্বোধন করছেন, দুর্গাঙ্গন করছেন, অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়কে অবজ্ঞা করছেন। শুধু তাই নয়, ভোটের সময় মুসলিম ভোটারদের ব্যবহার করে পরে তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
হুমায়ুনের কথায়, একসময় তাঁর সঙ্গে ছ’জন নিরাপত্তারক্ষী থাকতেন। ছ’মাস আগে সেই সংখ্যা কমে তিনে দাঁড়ায়। পরে সবাইকে তুলে নেওয়া হয়। অভিযোগ, এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেউই তাঁর কোনও কথা শোনেননি।
বেলডাঙার সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনারও উল্লেখ করেন। হুমায়ুন জানান, বেলডাঙা থেকে তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। তখন তিনি রানাঘাটে ছিলেন। তিনি ফোন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কেউ ধৈর্য্য ধরেনি বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, রোড ব্লক করা হয়, তাঁর কথা কেউ শোনেনি।
ব্রিগেডে সভা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর জানান, ৫০ বিঘা জমির জন্য এনওসি নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ১ ফেব্রুয়ারি সভা হতে পারে। সেই সভা মুর্শিদাবাদে হতে পারে, আবার ব্রিগেডেও হতে পারে বলে তিনি জানান। তবে ব্রিগেডে সভার জন্য আপাতত সেনাবাহিনীর অনুমতি না মেলায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ সেখানে অসহায় হয়ে বসে ছিল। সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এতক্ষণ ধরে রোড ব্লক কাম্য নয়। কিন্তু পাবলিক যদি হাতে আইন তুলে নেয়, তাহলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে, ব্রিগেডে সভার অনুমতি না পাওয়া থেকে শুরু করে বেলডাঙার অশান্তি; সব কিছুকেই সামনে রেখে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্কের আহ রাজ্য রাজনীতিতে।