'বিডিও অফিসে জানিয়েছিলাম, পাত্তা দেয়নি', 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' পাওয়া TMC-র রাকিবুল দায় চাপালেন দলের ঘাড়েই  

রাকিবুল শেখ আরও বলেন, তিনি প্রথমে জানতেন না যে তাঁর অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা জমা হচ্ছে। বিষয়টি তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। এমনকি দলের কিছু সদস্য তাঁকে জানায়, টাকা এলে তা নেওয়ায় কোনও সমস্যা নেই।

Advertisement
'বিডিও অফিসে জানিয়েছিলাম, পাত্তা দেয়নি', 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' পাওয়া TMC-র রাকিবুল দায় চাপালেন দলের ঘাড়েই  ভিডিওর স্ক্রিনশট।
হাইলাইটস
  • তৃণমূলের রাকিবুল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা আত্মসাৎ করার অভিযোগে নিজের দলের ওপরেই দায় চাপিয়েছেন।
  • নারী-কল্যাণের জন্য তৈরি এই জনপ্রিয় প্রকল্পে এমন অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় বিরোধীরা তৃণমূলকে একাধিকভাবে আক্রমণ শুরু করেছে।

তৃণমূলের রাকিবুল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা আত্মসাৎ করার অভিযোগে নিজের দলের ওপরেই দায় চাপিয়েছেন। নারী-কল্যাণের জন্য তৈরি এই জনপ্রিয় প্রকল্পে এমন অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় বিরোধীরা তৃণমূলকে একাধিকভাবে আক্রমণ শুরু করেছে। বিষয়টি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বহু অযোগ্য উপভোক্তা ভাতা পাচ্ছেন। এমনকি কিছু তৃণমূল নেতার নামও এই তালিকায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিরোধীদের বক্তব্য, এটি প্রশাসনিক নজরদারির বড় ব্যর্থতা।

এরই মধ্যে মুর্শিদাবাদের রাধারঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক তৃণমূল নেতা রাকিবুল শেখের নাম সামনে আসে। অভিযোগ, তিনি গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আওতায় প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পেয়ে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেই দলীয় ব্যবস্থাকেই দায়ী করেন। তাঁর দাবি, দলীয় শাসনকালেই এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বেড়েছে। 

রাকিবুল শেখ আরও বলেন, তিনি প্রথমে জানতেন না যে তাঁর অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা জমা হচ্ছে। বিষয়টি তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। এমনকি দলের কিছু সদস্য তাঁকে জানায়, টাকা এলে তা নেওয়ায় কোনও সমস্যা নেই। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনও চলমান। ইতিমধ্যেই বহু অযোগ্য উপভোক্তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।

এই ঘটনার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর ও অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। কোথাও পুরুষ উপভোক্তা, কোথাও আবার ভুয়ো পরিচয়ে ভাতা নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পটির স্বচ্ছতা নিয়ে।

Advertisement

এদিকে, রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধীরা দাবি করছে, পুরো প্রকল্পের স্বাধীন অডিট হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে শাসকদলের বক্তব্য, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে পুরো প্রকল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

POST A COMMENT
Advertisement