রেজিনগরের সিপিআইএম প্রার্থী সঈদ আসাদ আলি রেজিনগর উপনির্বাচনের সিপিআইএম প্রার্থী করেছে সঈদ আসাদ আলিকে। তাঁর উপর ভর করেই ভোট বৈতরণী পেরোতে চাইছে এই বাম দল। কিন্তু তিনি ভোটে দাঁড়াতেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, সিপিএম-এর প্রার্থী হওয়ার আগে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস করেছেন সঈদ আসাদ আলি। কিন্তু এই দাবি কি আদৌ সত্যি? সত্যিই কি তিনি কংগ্রেস ও টিএমসি করেছেন? এবার bangla.aajtak.in-এর কাছে মুখ খুললেন সঈদ আসাদ আলি।
সত্যিই কি তৃণমূল এবং কংগ্রেস করেছেন সঈদ?
তিনি স্বীকার করলেন, খুব কম সময়ের জন্য তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে গিয়ে মনের মিল ঘটেনি। তাই তিনি ফিরে এসেছেন সিপিআইএম-এ। যদিও তিনি কখনওই কংগ্রেস করেননি বলে জানালেন।
তাঁর কথায়, 'আমি তো স্পষ্টই বলছি। এখানে তো লুকোনোর কিছু নেই। আমি টিএমসিতে গিয়েছিলাম একটা সময়ে। আমি দেড় বছরের কিছু কম সময় ছিলাম। তারপরে টিএমসির যে সংস্কৃতি, নীতি, তার সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারিনি। আমি সেখান থেকে সরে এসেছি স্বেচ্ছায়। টিএমসির তখন ভরা বাজার। আমি সরে এসেছি ২০১৮-তে।'
রেজিনগরের সিট কতটা চ্যালেঞ্জিং?
এই প্রশ্নের উত্তরে সঈদ বলেন, 'শুরুতে চ্যালেঞ্জিং ছিল। এখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। এই মুহূর্তে আমি একদম জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী।'
তিনি মনে করেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে যেই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হয়েছিল, সেটা এই ভোটে থাকবে না। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ থেকে মানুষ বেরোতে চাইছে। রেজিনগরের মানুষ দেখাবে যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণই শেষ কথা নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই শেষ কথা।
রেজিনগরের জন্য কী বার্তা?
রেজিনগরের উন্নয়নের জন্য একাধিক কাজ করবেন বলে জানালেন সিপিআইএম প্রার্থী সঈদ। তিনি বলেন, 'মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে পিছিয়ে পড়া এলাকা রেজিনগর। এখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য খারাপ। এখানে শিল্পের কোনও ব্যবস্থা নেই। কোনও ভাল হাসপাতাল নেই। একটা মাত্র হাসপাতাল আছে মুরোটিয়াতে। তার বেহাল দশা। বেহালের চাইতেও খারাপ কিছু যদি ভাষা থাকে, সেটা। আমি বলছি, এলাকার উন্নতি করতে গেলে স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে হবে। এখানে একটা ভাল স্কুল বা কলেজ কিছুই নেই, সেটা করতে হবে। আমাদের এখানে বড় শিল্পতালুক তৈরি করতে হবে। তাহলে বেকার ছেলেমেয়েরা প্রচুর কাজ পাবে। কর্মসংস্থান হবে।'
সঈদের চান, যাতে রেজিনগরকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে বের করে আনা যায়। একটা উন্নত জায়গায় পরিণত করা যায়।