Mahua Moitra: এবার মহুয়াও 'বিদ্রোহী'? বাসুনিয়ার মন্তব্যে বড় ইঙ্গিত

তৃণমূল ছাড়তে পারেন মহুয়া? বিদ্রোহী শিবিরে যোগ নিয়ে জল্পনা বাড়ালেন বাসুনিয়া। 'রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়', মহুয়ার নাম উঠতেই জল্পনা উসকে দিলেন কোচবিহারের সাংসদ।

Advertisement
এবার মহুয়াও 'বিদ্রোহী'? বাসুনিয়ার মন্তব্যে বড় ইঙ্গিতমহুয়ার নাম উঠতেই জল্পনা উসকে দিলেন কোচবিহারের সাংসদ।
হাইলাইটস
  • ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য জগদীশ বর্মা বাসুনিয়ার।
  • মহুয়া কি 'মমতার তৃণমূল' ছাড়তে পারেন?
  • জগদীশের দাবি, রাজনীতিতে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।

মহুয়া কি 'মমতার তৃণমূল' ছাড়তে পারেন? ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য জগদীশ বর্মা বাসুনিয়ার(Jagadish Barma Basunia)। বর্তমানে বিদ্রোহী TMC-র অন্যতম মুখ কোচবিহারের সাংসদ। তাঁর দাবি, রাজনীতিতে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, দলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রায় নেই বললেই চলে। সমস্ত সিদ্ধান্ত একটি জায়গা থেকেই নেওয়া হয়। আর সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দাবি বাসুনিয়ার।  

অভিষেককে নিশানা বাসুনিয়ার
বিদ্রোহী সাংসদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভিতরে ক্ষোভ জমছিল। সময়ের সঙ্গে সেই অসন্তোষ আরও বেড়েছে। তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। বলেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতির পিছনে নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই মূল কারণ।

বাসুনিয়ার দাবি, তৃণমূলের বহু প্রবীণ নেতাও এই পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডলও অতীতে সাক্ষাৎকারে একই ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন বলে দাবি করেন।

'প্রবীণ নেতাদের কোনও গুরুত্বই নেই'
দলের প্রার্থী বাছাই নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কোচবিহারের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় বা প্রবীণ নেতাদের মতামত নেওয়া হয় না।

বাসুনিয়ার কথায়, তিনি নিজে সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও কোচবিহারের বিভিন্ন আসনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, তা আগাম জানতেন না। প্রার্থীদের নাম ঘোষণার দিনই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর দাবি, সেই প্রার্থীরা যে জিততে পারবেন না, আগে থেকেই তা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন।

জমানো ক্ষোভ
২০১৯ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন বাসুনিয়া। বলেন, সে সময় তিনি বিধায়ক ছিলেন। এলাকায় হিংসার কারণে তাঁকে প্রায় তিন মাস বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছিল। কিন্তু তখন রাজ্যে নিজেদের সরকার থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাননি। এমনই অভিযোগ তাঁর।

মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে জল্পনা
বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে কি মহুয়া মৈত্র যোগ দিতে পারেন? সরাসরি হ্যাঁ-না বলেননি বাসুনিয়া। তবে সম্ভাবনা উড়িয়েও দেননি। বলেন, 'রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়'।

তাঁর বক্তব্য, অতীতে মহুয়া মৈত্র মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছিলেন। ভবিষ্যতে কে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন বাসুনিয়া।

Advertisement

আলাদা গ্রুপ গঠনের দাবি নিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা
বাসুনিয়া আরও জানান, সম্প্রতি সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার দিন বিদ্রোহী সাংসদরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক করেছিলেন। প্রথম দিন সেখানে ১৪ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি তাঁর। পরে সেই বৈঠকে সায়নী ঘোষও যোগ দেন বলে জানিয়েছেন।

তাঁর দাবি, বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে সংসদে তৃণমূল থেকে পৃথক একটি স্বতন্ত্র গ্রুপ হিসেবে বসার অনুমতি চাইবেন। সেই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বা শতাব্দী রায়ের মতো প্রবীণ নেতাদের কাউকে বেছে নেওয়া হতে পারে। 

কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ
তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন, বিদ্রোহী সাংসদরা নাকি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবস্থান বদলেছেন। সেই অভিযোগের জবাবে কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বাসুনিয়া।

তাঁর দাবি, কীর্তি আজাদ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন। বাংলার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে বাসুনিয়া জানিয়েছেন, বিদ্রোহী অবস্থান নেওয়ার পরও থেকে তাঁর কাছে মমতা বা অভিষেকের কোনও ফোন আসেনি। তাঁকে দলীয় নেতৃত্বের তরফে মানভঞ্জনের কোনও চেষ্টা করা হয়নি বলে দাবি সাংসদের।

POST A COMMENT
Advertisement