জাহাঙ্গির খান ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান আগেই গ্রেফতার হয়েছেন। এবার পুলিশের জালে তাঁর স্ত্রী। স্বামীর গ্রেফতারির পর ফলতা এলাকায় তিনি বারবার বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, এই বিক্ষোভের জেরে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। আগামীদিনে পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণেই তাঁকে হেফাজতে নিতে চায় পুলিশ।
পুলিশের আরও বক্তব্য, ফলতায় বিপুল সংখ্যায় মানুষকে একজোট করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার জেরে মোতায়েন করা হয় CRPF। এলাকায় পৌঁছে তারা জনতার ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। গ্রেফতারির পর থেকেই জাহাঙ্গির ওরফে ‘পুষ্পা’কে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরাতে দেখা গিয়েছিল পুলিশকে। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং তৃণমূল নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। সেই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল জাহাঙ্গিরের স্ত্রীকে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের পরিকল্পনাও ছিল থানা ঘেরাও করার। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপরেও চড়াও হয়েছিলেন কয়েকজন। পাল্টা লাঠিচার্জও করে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। পালাতে গিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিতেও দেখা যায় অনেককে।তারপর থেকেই ব়্যাডারে ছিলেন জাহাঙ্গির খানের পত্নী। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে নেমে তাঁর লোকেশন ট্র্যাক করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ফলতায় জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে গোটা ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুঁশিয়ারিও দেন, কেউ যেন নিজের হাতে আইন না তুলে নেন। কোনও গুন্ডামি, জঙ্গিপনা বরদাস্ত করা হবে না। তার পরেই পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, থানায় হামলা চালানোর ঘটনায় ভিডিয়োতে যাঁদের গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক আইনে নতুন করে মামলা রুজু করা হয় ফলতা থানায়। শুক্রবার পর্যন্ত মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গির সহ ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারার মধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী দেশদ্রোহিতার মামলাও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা সূত্রে।