Madan Mitra: মদনের মন আসলে কালীঘাটেই পড়ে? সাতদিনে যে ঘটনাগুলি বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ

ঋতব্রতের শিবিরে যোগদানের পর থেকেই অভিষেককে নিয়ে ক্ষোভ উগরাচ্ছেন মদন। অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সমর্থন বিধায়কের। ঋত শিবিরে এসেও শোভনদেবকে নিয়ে মন কেমন। কোন পক্ষে রয়েছেন তিনি?

Advertisement
মদনের মন আসলে কালীঘাটেই পড়ে? সাতদিনে যে ঘটনাগুলি বেশ ইঙ্গিতপূর্ণমদন মিত্র কোন পক্ষে?

নিশানা, পাল্টা নিশানা। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বনাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যুযুধান দু'পক্ষের তরজায় ক্রমশ গরম হচ্ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ঋতব্রতের শিবিরে যোগদানের পর থেকেই অভিষেককে নিয়ে ক্ষোভ উগরাচ্ছেন মদন। অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সমর্থন বিধায়কের। ঋত শিবিরে এসেও শোভনদেবকে নিয়ে মন কেমন। কোন পক্ষে রয়েছেন তিনি?

গত ১৫ জুলাই ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দেন মদন। সাতদিন পার হতে না হতেই তাঁর ওপর বেজায় চটেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অভিষেকের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ সম্প্রচারে তাঁকে নিয়ে মানহানিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন মদন মিত্র। যে কারণে বিধায়ককে ১০ কোটি টাকার আইনি নোটিশ ধরালেন অভিষেক। 

গত সাতদিনে মদন বনাম অভিষেকের তিক্ততা 
১৫ জুলাই, মমতার তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দেন কামারহাটির বিধায়ক। তার আগে গত ১৪ জুলাই ইডি নোটিস পাঠায় মদনের স্ত্রী ও ছেলেকে। তারপর ওই দিন সন্ধেয় মদন হাজির হন সন্দীপন সাহার বাবা তথা এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয় তাঁদের। এর পরদিন সকালে বিধানসভায় ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দেন মদন। শিবির বদলেই অভিষেককে একহাত নেন বিধায়ক।

শোভনদেবের পক্ষে মদন

এ প্রসঙ্গে কুণালের মন্তব্য ছিল, “আমরা এটুকু জেনে রাখছি, আমাদের ভিতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।” এর জবাবও দেন মদন। বলেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দশ বছর বিরোধী আসনে দেখতে চান তিনি। এতেই পরিষ্কার, পুরনো সংসার ছাড়লেও সেই সংসারের প্রতি টান রয়ে গিয়েছে কামারহাটির বিধায়কের। তাই শিবির বদলেও বারংবার শুধু অভিষেককেই নিশানা শানাতে দেখা গেছে মদনকে। ডেডলাইন দিয়েছেন মমতাকেও।

মেয়ো রোডে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ করেন মদন। বলেন, “খোলাখুলি শুনুন। আমি অন্য কাউকে নয়। মমতাকে বলছি, অভিষেক এক ঘণ্টা টাইম দিয়েছে। আপনাকে এক মাস সময় দিচ্ছি। অভিষেকের হাত ছেড়ে এদের হাত ধরুন। আপনার পার্টি এটা, অভিষেকের পার্টি নয়।”

Advertisement

তারামণ্ডলের সভামঞ্চ থেকে ঋত শিবিরকে এদিন তীব্র আক্রমণ করেন মমতা ও অভিষেক। বলেন, "এদের মেরুদণ্ড নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব, এদের কাউকে ফেরত নেবেন না।" মমতাও বার্তা দেন, "বিজেপিতে যান। যত যাবেন খুশি হব। যে স্থান শূন্য হবে, তা পূরণের জন্য আমার ছাত্র, যুব আছে।" 

পাল্টা অভিষেককে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ডায়মন্ড হারবার নিয়ে অন্যদের  চমকানো গেলেও তাঁকে চমকানো যাবে না।

অভিষেককে 'খুনি' মন্তব্য, পাল্টা ১০ কোটির সমন
শুধু তাই নয়, ১৯ জুলাইয়ের লাইভেও অভিষেককে ক্রিমিনাল-খুনি বলে বলে আক্রমণ শানান ক্ষুব্ধ মদন। তিনি বলেন, "অভিষেক আপনি তো অপরাধী, খুনি। পয়সা নিয়ে খুন করেন, সুপারি কিলার। আপনার অপরাধপ্রবণতা রয়েছে।" এরই ভিত্তিতে পাল্টা মদনকে ১০ কোটি টাকার নোটিশ ধরান অভিষেক। নোটিশে অভিষেকের দাবি, মদন মিত্র ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক অভিযোগ করেছেন। লাইভ সম্প্রচারে এমন ইঙ্গিত করেছেন, যা সম্পূর্ণ মনগড়া। ওই সম্প্রচার বিভিন্ন ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অসংখ্য মানুষের কাছে সেই মন্তব্য পৌঁছেছে। এর ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি মদন মিত্রকে তিন দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নোটিশে।  নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

তবে কালীঘাট ছেড়ে ঋত শিবিরে এসেও ফাঁড়া কাটল না। একুশে জুলাইয়ের সভা থেকে ফিরতেই খোদ মদনের কাছেই আসে ইডির নোটিশ। কয়েকদিন আগে মদনের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তলব করেছিল ইডি। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই ইডির সমন পেয়েছেন মদন নিজেই। আগামী ২৩ জুলাই মদনের স্ত্রীকে তলব করা হয়েছে। ২৯ জুলাই তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে সমন পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তিনি সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

POST A COMMENT
Advertisement