শুভেন্দু অধিকারী আজ সকাল সকাল স্বাস্থ্য়ভবনে হঠাৎ পরিদর্শনে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালের ২৪*৭ নজরজারির ব্যবস্থা বা লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি কলকাতা হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারাতলা কাণ্ডের পর তিনি বুঝতে পেরেছেন রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলিতে ট্রমা সামলে দেওয়ার বড় কোনও পরিকাঠামো নেই। যেই কারণে তিনি সরকারি হাসপাতালে ট্রমা সামলে দেওয়ার বড় ইউনিট তৈরি করার কথা ঘোষণা করলেন। তিনি এমন একটা ইউনিট চাইছেন, যেখানে অন্তত ২৫০ রোগীর চিকিৎসা করা যায়। আর এই কাজটা দ্রুত সেরে ফেলা হবে বলেও জানালেন তিনি।
পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের বেড বাড়ানো, উন্নত বার্ন ইউনিট তৈরি এবং আইসিইউ বেড বাড়ানোর কথাও বললেন তিনি।
রোগীর বাড়ির লোকেদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
মুখ্যমন্ত্রী আজ হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় শুয়ে থাকা রোগীর পরিজনদের জন্যও বিরাট ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সরকার চাইছে এই সব মানুষের জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করার। একটা শেড দিয়ে জায়গাটা তৈরি করা হবে। সেখানে ফ্যান থাকবে। এমনকী পাবলিক টয়লেটও তৈরি করে দেওয়া হবে।
দালাল রাজ চলবে না
মাথায় রাখতে হবে নয়া সরকার তৈরির পরই হাসপাতাল থেকে দালালরাজ দূর করার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে চলছে ২৪ ঘণ্টার লাইভ মনিটরিং। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে হাসপাতাল চত্ত্বরে নজর রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমেই দালাল চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
আর এই ব্যবস্থাই আজ খতিয়ে দেখলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই ব্যবস্থা দেখে খুশি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যভবনে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। লাইভ মনিটরিং চলছে। কোনও দালাল যাতে না থাকে, সেটা নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই দালাল চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
হাসপাতাল নিয়ে আর কী বললেন?
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি আজ হাসপাতালের লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা দেখেছেন। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা দেখে ভাল লাগছে। আউটডোরে ভাল কাজ হচ্ছে। এন্ট্রি করে হচ্ছে চিকিৎসা। সেটা দেখে তাঁর ভাল লাগছে বলে দাবি করলেন তিনি।
তাঁর মতে, ধীরে ধীরে হাসপাতালের পরিবেশ বদলে যাবে। আমলারা ভাল কাজ করছেন। তাঁদের কাজ করার জন্য গাইড করা দরকার। তাঁরা কাজের মুক্ত পরিবেশ পেয়েছেন। এতে ঠিকঠাক কাজ হবে।
রোগীর খাবারের জন্য বরাদ্দ বেড়েছে
এতদিন রোগীর খাবারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫৪ টাকা। সেটা বাড়িয়ে ১১০ টাকা দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে শেষবার রিভাইস করা হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি সরকার এসেই বরাদ্দ বেড়েছে। এতে ভাল খাবার মিলছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।