Kolkata Market Price: পেঁয়াজ ৮০, সর্ষের তেল ২০০, কবে কমবে দাম? জানালেন পাইকারি ব্যবসায়ী

Kolkata Market Price: পুজোর আনন্দ মিটেছে। কিন্তু মধ্যবিত্তের সংসারে এখনও স্বস্তির দেখা নেই। বরং লক্ষ্মীপুজোর পরও বাজার রীতিমতো আগুন। পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা। বাদাম তেল, সর্ষের তেলের দামও ২০০ টাকার আশেপাশে।

Advertisement
পেঁয়াজ ৮০, সর্ষের তেল ২০০, কবে কমবে দাম? জানালেন পাইকারি ব্যবসায়ীসাপ্লাই চেন মোটের উপর স্বাভাবিক থাকলেও দাম কমছে না।
হাইলাইটস
  • মধ্যবিত্তের সংসারে এখনও স্বস্তির দেখা নেই।
  • লক্ষ্মীপুজোর পরও বাজার রীতিমতো আগুন।

Kolkata Market Price: পুজোর আনন্দ মিটেছে। কিন্তু মধ্যবিত্তের সংসারে এখনও স্বস্তির দেখা নেই। বরং লক্ষ্মীপুজোর পরও বাজার রীতিমতো আগুন। পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা। বাদাম তেল, সর্ষের তেলের দামও ২০০ টাকার আশেপাশে। রান্নার প্রায় প্রতিটি পদেরই দিন দিন দাম বাড়ছে। চিনির দাম আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য সামগ্রীর দামে চিন্তায় ক্রেতারা। প্রশ্ন একটাই, কবে দাম কমবে?

মানিকতলা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান বাবলু দাসের কথায়, এখনই পেঁয়াজের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বললেন, 'পুজোর পরও কালীপুজো এবং ভাইফোঁটা পর্যন্ত বাজারে চাহিদা বেশি থাকবে। ফলে দামও চড়া থাকতে পারে। উৎসবের মরসুমে বাড়তি চাহিদা তো আছেই। সাপ্লাইয়ের খরচও বাড়ছে।'

তবে পেঁয়াজের দামে অবশ্য গত মাসেই কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ আনে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, পুজোর সিজনের কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গে বাড়তি পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে। সরকারি বাফার স্টক থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১,৪০০ টন পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। কলকাতার মানিকতলা, শ্যামবাজার ও কোলে মার্কেট-সহ ২৫টিরও বেশি জায়গায় সেই বিক্রির ব্যবস্থা হয়েছিল। তবে সরকারি উদ্যোগ থাকলেও ছোট বাজার, দোরানে তার প্রভাব সর্বত্র সমানভাবে পড়ছে না। 

তেলের দাম বাড়ার কারণ কী?
বাদাম ও সর্ষের তেলের বাজারেও চাপ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, উৎপাদন, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং কেনার খরচ বাড়ছে। সংস্থাগুলি সেই বাড়তি খরচের বোঝা পণ্যের দামে চাপাচ্ছে। সাপ্লাই চেন মোটের উপর স্বাভাবিক থাকলেও দাম কমছে না।

গত ২৯ অক্টোবরের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, খরিফ মরসুমে খরা ও আবহাওয়ার প্রভাবে সয়াবিন এবং বাদামের উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি বছর বাদামের উৎপাদন ২০ শতাংশেরও বেশি কমতে পারে। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের ভোজ্যতেলের আমদানি ১৬৫ লক্ষ টন থেকে বেড়ে ১৭৫ লক্ষ টনে পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের দাম: পাইকারি বাজারে কত?
৩১ অগাস্ট কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক দফতরের তথ্যানুযায়ী, জাতীয় গড় পাইকারি দাম নিচের চার্টে ব্যাখ্যা করা হল। উল্লেখ্য, এগুলি ন্যাশানাল অ্যাভারেজ পাইকারি দর। কলকাতার বাজারের রিটেল দর নয়। 

Advertisement

সূত্র: কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক দফতর, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
পাইকারি দামের গ্রাফ।

কেন্দ্র অবশ্য গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানি করা ভোজ্যতেলের উপর শুল্ক কমিয়েছে। অপরিশোধিত সূর্যমুখী তেলের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য এবং সয়াবিন ও পাম তেলের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু আমদানি খরচ কমলেই খুচরো বাজারে সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে না। 

চিনির দাম কি আপাতত নিয়ন্ত্রণে?
চিনির দাম আপাতত স্থির আছে বলেই জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি হস্তক্ষেপের পর বাজারে আর তেমন ওঠানামা হয়নি।

কবে বাজারদর কমবে?
এখনই নির্দিষ্ট করে দিন বলা কঠিন। কালীপুজো ও ভাইফোঁটার চাহিদা মিটলে পেঁয়াজের দাম কমার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তেলের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাজার এবং আমদানির খরচ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাপ্লাই চেন ঠিক থাকলেও কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচ না কমালে এখনই দাম কমা কঠিন। অর্থাৎ কালীপুজোর পরেই যে দাম কমে যাবে, এমন সম্ভাবনা নেই বলেই চলে। 

POST A COMMENT
Advertisement