Smita Pandey Administrator: ফিরহাদের ইস্তফার পর বড় পদক্ষেপ, কলকাতা পুরসভার প্রশাসক হলেন স্মিতা পাণ্ডে

নতুন মেয়রের নাম ঠিক না হওয়ায় কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য সরকার। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক(Administrator) করা হয়েছে। ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার কয়েক দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত।

Advertisement
ফিরহাদের ইস্তফার পর বড় পদক্ষেপ, কলকাতা পুরসভার প্রশাসক হলেন স্মিতা পাণ্ডেফিরহাদ হাকিমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফার কয়েক দিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ।
হাইলাইটস
  • ভেঙে দেওয়া হল কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড।
  • পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
  • ফিরহাদ হাকিমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফার কয়েক দিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ।

Smita Pandey Administrator: রাজ্য সরকারের নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হল কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড। পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক(Administrator) হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব এখন সরাসরি তিনিই চালাবেন। ফিরহাদ হাকিমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফার কয়েক দিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ।

শুক্রবার মেয়র পদ ছাড়েন ফিরহাদ। তার পরেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে কলকাতা পুরসভাকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, মেয়রের পদ শূন্য হওয়ার পর কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, নতুন মেয়রের নাম সোমবারের মধ্যে জানাতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মেয়রের নাম জানানো হয়নি। এর পরেই কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০-এর আওতায় পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।

সরকারি সূত্রের দাবি, মেয়রের পদত্যাগের পর পুরসভার স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নাগরিক পরিষেবা প্রদানেও সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হয়। সেই কারণেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের বক্তব্য।

নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছিল, কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০-এর ১১৭(১) ধারা অনুযায়ী কোনও পুরসভা যদি তার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, ধারাবাহিক ভাবে কর্তব্যে গাফিলতি করে অথবা কার্যকর প্রশাসন চালাতে না পারে, সে ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার পুরবোর্ড ভেঙে দিতে পারে। সেই আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করেই বর্তমান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ক্ষমতার বড় অংশ কার্যত কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁরা স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছেন না। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিরহাদের পদত্যাগ ঘিরে জল্পনা আরও বাড়ে।

রবিবার তৃণমূল ভবনে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর ও নেতৃত্বকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, ওই বৈঠকেই পরবর্তী মেয়রের নাম চূড়ান্ত হতে পারে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। যদিও দলের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের কারণ দেখানো হয়েছিল, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কাউন্সিলরদের মধ্যে মতভেদ এবং অনিশ্চয়তার কারণেও বৈঠক পিছিয়ে যেতে পারে।

Advertisement

বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের ১৩৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। তবে বিভিন্ন মামলায় একাধিক কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। পাশাপাশি দলের অন্দরে অসন্তোষ এবং নেতৃত্ব নিয়ে মতভেদের ঘটনাও সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে নতুন মেয়র নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছিল।

এ দিকে, আগামী ১৯ জুন পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় যে পুর অধিবেশন ডেকেছিলেন, পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার ফলে সেটিও আর অনুষ্ঠিত হবে না। প্রশাসকের হাতেই এখন কলকাতা পুরসভার সমস্ত দায়িত্ব থাকবে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। 

POST A COMMENT
Advertisement